
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন, আইএসএল-এর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি এবং বিশ্বখ্যাত স্পোর্টস টেকনোলজি সংস্থা 'জিনিয়াস স্পোর্টস'-এর মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই মেগা বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল ইন্ডিয়ান সুপার লিগ-এর বাণিজ্যিক অধিকার পর্যালোচনা এবং লিগটিকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার সুদুরপ্রসারী রোডম্যাপ তৈরি করা। তবে এই সংস্থায় আস্থা নেই মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের।
কীভাবে কাজ করবে এই সংস্থা?
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা বা ব্রাজিলিয়ান লিগের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলির মানদণ্ডে আইএসএল-কে গড়ে তুলতে চাইছে জিনিয়াস স্পোর্টস। উল্লেখ্য, এই সংস্থাটি বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে এনএফএল, ইপিএল-সহ ৭০০-র বেশি ক্রীড়া সংস্থার ডেটা এবং প্রযুক্তিগত দিক সামলায়। বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চালিত আধুনিক অফিশিয়েটিং টুলস এবং উন্নত রেফারিং প্রযুক্তির সাহায্যে ম্যাচ পরিচালনা আরও স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, সম্প্রচার ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় 'ফ্যান এনগেজমেন্ট' বা ইমার্সিভ অভিজ্ঞতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে শুধু প্রযুক্তি নয়, ক্লাবগুলির আর্থিক স্থায়িত্বের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জিনিয়াস স্পোর্টস এমন একটি রাজস্ব বণ্টনের মডেল প্রস্তাব করেছে, যার মাধ্যমে লিগের ভবিষ্যৎ আয়ের একটা বড় অংশ ক্লাবগুলির কাছে পৌঁছবে। এই অর্থ সামগ্রিকভাবে ফুটবলের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ইকোসিস্টেমে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে লিগের সম্প্রচার ছড়িয়ে দিয়ে স্পনসরদের কাছে আইএসএল-কে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ছক কষা হয়েছে এই ব্লু-প্রিন্টে।
ইস্টবেঙ্গল পাশেই দাঁড়িয়েছে ফেডারেশনের
ইস্টবেঙ্গল যদিও এই ব্যাপারে একেবারে ফেডারেশনের পাশেই দাঁড়িয়েছে। ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, 'জিনিয়াস স্পোর্টস-এর (Genius Sports) সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে যে নতুন বাণিজ্যিক আয়ের পথ উন্মোচিত হয়েছে, তাতে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব অত্যন্ত উৎসাহিত। এটি একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত যে, আইএসএল-এর সামগ্রিক পরিকাঠামো একটি আরও বেশি টেকসই এবং বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী মান্ডাল রূপান্তরিত হচ্ছে। লিগ যে পথে এগোচ্ছে এবং আগামী দিনে ভারতীয় ফুটবলের সামনে যে বিপুল সুযোগ আসতে চলেছে, তা নিয়ে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। তবে একই সাথে এটিও অত্যন্ত জরুরি যে. মূল কেন্দ্রীয় রাজস্ব, বিশেষ করে সম্প্রচার থেকে প্রাপ্ত আয়ি যেন ন্যায্য ও স্বচ্ছভাবে বণ্টন করা হয়। কারণ লিগের দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্ব এবং সাফল্যের জন্য ক্লারগুলির টিকে থাকাটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
কেন বৈঠকে যোগ দেয়নি মোহনবাগান?
ইস্টবেঙ্গলের তরফে বৈঠকে ছিলেন সন্দীপ আগরওয়াল ও সৈকত গঙ্গোপাধ্যায়। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত ছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইন্টার কাশী। যা খবর, অভ্যন্তরীণ আর্থিক সমস্যার কারণে ইন্টার কাশী এই বৈঠকে অংশ নেয়নি। তবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের না থাকার কারণ হিসেবে এই সংস্থার প্রতি আস্থা না থাকার বিষয়টিই উঠে আসছে।
সব মিলিয়ে, জিনিয়াস স্পোর্টস-এর হাত ধরে আইএসএল-এর এই আধুনিকীকরণ এবং বাণিজ্যিক রূপান্তরের প্রস্তাব ভারতীয় ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলেই মনে করছে ফুটবল মহল। আগামী দিনে এই মাস্টারপ্ল্যান কীভাবে মাঠে বাস্তবায়িত হয়, এখন নজর সেদিকেই।