
ঘরের মাঠে পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ড্র করে আইএসএল আরও জমিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। শীর্ষে থাকলেও, তা পোক্ত হল না লাল-হলুদের। মঙ্গলবার মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট ইন্টার কাশীকে হারিয়ে দিলেই শীর্ষে উঠে আসবে। মোট তিনবার পোস্টে বল লাগা ছাড়া বিরাট কিছুই হয়নি ম্যাচে। দুই প্রান্ত থেকে সেভাবে আক্রমণ হয়নি, হয়নি কোনও দুর্দান্ত ড্রিবল।
ম্যাচের শুরুতেই গোল পেতে পারত পঞ্জাব। রামিরেজ পোস্টে মারেন। এরপরের দুটি ক্ষেত্রে অবশ্য গোল থেকে বঞ্চিত হতে হয় ইস্টবেঙ্গলকে। খেলার শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে গিয়েছেইস্টবেঙ্গল। কারণ তাদের জয় আরও বেশি জরুরী ছিল। মাঝমাঠে দ্রুত পাসিং এবং দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ে তুলতে থাকে লাল-হলুদ ব্রিগেড। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও পঞ্জাবের রক্ষণ যথেষ্ট সংগঠিত ছিল। গোলরক্ষকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ ইস্টবেঙ্গলকে হতাশ করে।
অন্যদিকে, কাউন্টার অ্যাটাকে ভর করে পঞ্জাব এফসিও বারবার চাপে ফেলে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্সকে। বিশেষ করে দ্রুত গতির আক্রমণ এবং বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট ম্যাচে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। মাঝমাঠে দুই দলের ফুটবলারদের লড়াই ছিল বেশ উপভোগ্য।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। কোচদের কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে আক্রমণের ধার বাড়ে দুই দলেরই। ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকেরা গ্যালারি থেকে নিরন্তর সমর্থন জোগাতে থাকেন, যা দলের ফুটবলারদের বাড়তি অনুপ্রেরণা দেয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় ছিল।
সব মিলিয়ে, ইস্টবেঙ্গল বনাম পঞ্জাব এফসির এই ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ছিল এক দারুণ উপভোগ্য লড়াই। ট্যাকটিক্যাল ফুটবল, দ্রুত গতি এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা—সব কিছু মিলিয়ে ম্যাচটি আইএসএলের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ হয়ে উঠেছে।