
বিরক্তিকর ফুটবল। বাঙালি কোচ অভিজিৎ মন্ডলের মস্তিস্ক আটকে দিল জেসন কামিন্স, জেমি ম্যাকলরেনদের। ফলে লিগ জয়ের অঙ্ক আরও কঠিন করে ফেলল মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। রবিবারের ডার্বির আগে চাপ বাড়লো ফুটবলারদের উপর। দুই দলই এখনও ২২ পয়েন্টে। এখানে থেকে জয় ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা খোলা নেই সের্জিও লোবেরার দলের সামনে। অন্যদিকে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল।
কীভাবে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে মোহনবাগান?
সোমবার ঘরের মাঠে পঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে ড্র করে ইস্টবেঙ্গল। অস্কার ব্রুজোর দলের খেলাতেও মন ভরেনি দর্শকদের। এর মধ্যেই ডার্বি। গোল পার্থক্য অনুসারে লিগ তালিকায় শীর্ষে লাল-হলুদ। সেই পার্থক্যও কমানোর আর সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গল যেখানে দুই বিদেশি স্ট্রাইকার নিয়ে প্রচুর গোল করেছে, সেখানে মোহনবাগান দোলে একাধিক স্ট্রাইকার থাকার সত্ত্বেও সেভাবে গোলের মুখ খুলতে পারেনি গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই। ফলে প্রশ্ন উঠছে।
ডার্বি ম্যাচে নেই সৌভিক-সল
মোহনবাগান পারফরম্যান্সের কারণে চাপে, তবে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে সমস্যা একেবারেই অন্য। চোট পেয়ে পরের দুই ম্যাচ মাঠের বাইরে সল ক্রেসপো। পঞ্জাব এফসি ম্যাচের আগে চোট পেয়েছিলেন সল। সেই ম্যাচে তাঁকে নামানোর ঝুঁকি নেয়নি ইস্টবেঙ্গল। শেষ মুহূর্তে বদল করতে হয়েছিল অস্কার ব্রুজোকে। তবে সেই ম্যাচের পর জানা যায়, বাকি দুই ম্যাচেও খেলতে পারবেন না ইস্টবেঙ্গল ক্যাপ্টেন। তাঁর ঠিক কোথায় চোট লেগেছে, এবং তা সত্যিই কতটা গুরুতর সেটা জানা যাচ্ছে না। আর তাই ক্ষোভ সমর্থকদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, মরসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় কীভাবে বারবার চোট পান সল?
অন্যদিকে বাঙালি মিডফিল্ডার সৌভিক চক্রবর্তীকেও পাবে না ইস্টবেঙ্গল। চারটে হলুদ কার্ড দেখায় ডার্বিতে তাঁর খেলা হবে না। ফলে বলাই যায়, রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি ঠিক কতটা, ডার্বিতে সেটাই দেখার। গত কয়েক মরসুমে তা ভাল না হলেও, এ মরসুমে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তা দিয়ে কি ট্রফি জেতা সম্ভব? সেটাই ভাবাচ্ছে কোচ অস্কারকে।
সৌভিকের জায়গায় কে?
মাঝমাঠে সৌভিকের জায়গায় ফেরানো হতে পারে জিকসন সিং-কে। এ মরসুমে তাঁকে নানা ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে ভাল খেলেছেন। তবে এবার ফেরত পাবেন পছন্দের জায়গায়। সেদিক থেকে ডার্বিতে তিনি বাজিমাত করতে পারেন কীনা সেটাই দেখার। দূর থেকে শট করে গোল করার দক্ষতাও আছে তাঁর। হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেটা কাজে লাগতে পারে।