
লিগ নির্ণায়ক কলকাতা ডার্বিকে ঘিরে বহু বছর পর ফের চরম উত্তেজনা। ম্যাচের আগেই টিকিট বিক্রি শেষ। শহর জুড়ে স্পষ্ট ফুটবল জ্বর। নানা অঙ্ক কষতে শুরু করে দিয়েছেন দুই দলের সমর্থকরা। মোহনবাগান লিগ ট্রফি ধরে রাখার লড়াইয়ে নিজেদের উজাড় করে দিতে মরিয়া। আর ইস্টবেঙ্গল দীর্ঘদিন পর স্বমহিমায়। ফলে এমন লড়াইয়ে দল কেমন হবে সেদিকে নজর সকলের।
এই আবহেই শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, 'এই ধরনের বড় ম্যাচ খেলতে সব ফুটবলারই মুখিয়ে থাকে, কারণ পরিবেশটা অসাধারণ। তবে এমন ম্যাচে শান্ত থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ সমস্যা তৈরি করতে পারে। মানসিকভাবে স্থির থেকেই মাঠে নামতে হবে। এই ম্যাচ যেমন উপভোগ্য, তেমনই ঝুঁকিও থাকে। এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখা। আমার পুরো ফোকাস এখন ডার্বির উপরই।' অধিনায়ক রাশিদও একই সুরে বলেন, 'এমন ম্যাচে শান্ত ও সংযত থাকা জরুরি। মানসিকভাবে স্থির থেকে নিজের খেলায় মনোযোগ দেওয়াই আসল।'
ম্যাচের আগের দিন লাল-হলুদ অনুশীলনেও সেই মানসিক প্রস্তুতির ছাপ স্পষ্ট। ফুটবলারদের চাপমুক্ত রাখতে শুরুতেই ফান গেমের আয়োজন করেন ব্রুজো। এরপর দলকে দু'ভাগে ভাগ করে মূল। অনুশীলন শুরু হয়। ৪-২-১-৩ ফর্মেশনে দল সাজিয়ে অনুশীলন করান কোচ। ডিফেন্সে আনোয়ার ও কেভিন জুটির সঙ্গে দুই ব্যাকে ছিলেন জয় গুপ্তা ও রাকিপ।
যদিও রাকিপ না লালচুংনুঙ্গা শুরু করবেন সেই ব্যাপারে ধোঁয়াশা রয়েছে। অন্যদিকে ডিফেন্সিভ মিডে জিকশন সিং ও রাশিদ, আক্রমণভাগে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে ছিলেন মিগুয়েল। দুই প্রান্তে বিপিন সিং ও পিভি বিষ্ণু থাকলেও এদিন স্ট্রাইকার পজিশনে দেখা যায় অ্যান্টন সোজবার্গকে। ফলে প্রথম একাদশে অ্যান্টন শুরু করবেন, নাকি ইউসেফকে সেই সিদ্ধান্ত রবিবার সকালে নেওয়া হবে। এদিনও অনুশীলন শেষে যুবভারতীতে ভিড় জমান লাল-হলুদ সমর্থকেরা। কোচ অস্কার ব্রুজোর কাছে তাদের একটাই দাবি, ডার্বি জিতে আইএসএল জিততে চায় তারা।