
বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ড্র করে মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের বিরাট সুবিধা করে দিল ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানের সামনে ডার্বি ছাড়া বিরাট কঠিন কোনও ম্যাচ নেই। তবে লিগ টেবিলের চাপ অবশ্যই রয়েছে। ১০ জন হয়ে যাওয়ার পর, ইস্টবেঙ্গলের যে লড়াই তা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন দর্শকরা। বারবার পিছিয়ে পড়েও ফিরে আসার যে নিদর্শন বৃহস্পতিবার লাল-হলুদ দেখালো, তা দেখা যায়নি দীর্ঘদিন।
লিগ টেবিলে কোন দল কোন জায়গায়?
এই ম্যাচে যে কোনও দল জিতলেই কিছুটা চাপ বাড়ত সের্জিও লোবেরার দলের উপর। কারণ ইস্টবেঙ্গল বা বেঙ্গালুরু দুই দলই চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে রয়েছে। আর কোনও দল জিতে গেলে সমস্যা বাড়তে পারত। সেদিক থেকে এই ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখনও ৮ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মুম্বই সিটি এফসি। মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট রয়েছে দুই নম্বরে। ৮ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট সবুজ-মেরুনের। তিন নম্বরে থাকা ইস্টবেঙ্গল আট ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট পেয়েছে। বেঙ্গালুরু এফসি কিন্তু ইতিমধ্যেই ৯ ম্যাচ খেলে ফেলেছে। সুনীল ছেত্রীদের পয়েন্ট ১৫।
এবারের আইএসএল-এ ম্যাজিক ফিগার কত?
পাঁচ ম্যাচ বাকি রয়েছে তিন দলেরই। অর্থাৎ সব দলই বাকি পাঁচ ম্যাচ জিততে পারলে আরও ১০ পয়েন্ট পেতে পারে তারা। সেক্ষেত্রে মুম্বই পৌঁছে যাবে ২৮ পয়েন্টে। মুম্বই বাকি পাঁচ জিতে গেলে ২৭ পয়েন্টে শেষ করতে হবে মোহনবাগান সুপার জায়েন্টকে। ফলে মোহনবাগানের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে মুম্বইয়ের উপর। ইস্টবেঙ্গল আরও বেশি করে নির্ভর করছে দুই দলের পয়েন্ট নষ্টের উপর। অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে মুম্বই ও মোহনবাগান দুই দলকেই হারতে হবে।
কঠিন ম্যাচ মুম্বই, ইস্টবেঙ্গলের সামনে
মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ বাকি ইস্টবেঙ্গলের। ম্যাচ বাকি রয়েছে মুম্বইয়ের সঙ্গেও। এই দুই প্রতিপক্ষকে হারিয়েই লিগ জিততে হবে লাল-হলুদ ক্লাবকে। মুম্বই খেলবে, এফসি গোয়া, বেঙ্গালুরু এফসি, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান ও পঞ্জাবের বিরুদ্ধে। অবন্যদিকে মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের ম্যাচ রয়েছে, নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড এফসি, এফসি গোয়া, ইন্টার কাশি, হায়দরাবাদ ও ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। অনুয়দিকে লাল-হলুদ ক্লাবের ম্যাচ খেলতে হবে, ওড়িশা এফসি, মুম্বই সিটি এফসি, পঞ্জাব, ইন্টার কাশি ও মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট।
ফলে মোহনবাগান যদি পুরপুরি ছন্দ ফিরে পায়, তা হলে ট্রফি ধরে রাখা খুব সমস্যার হবে না। তবে ম্যাচ জিততে হবে। ক্ষমতা অনুযায়ী মাঠে খেলতে হবে। তা না হলে খুব কাছ থেকে ফের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হারাতে হবে শুভাশিস বসুদের। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের কাজ হবে, বেঙ্গালুরু ম্যাচের লড়াইতাই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেটা করতে পারলে দীর্ঘদিনের অধরা লিগ ধরা দেবে। অন্যদিকে মুম্বই সিটি এফসি-র লক্ষ্য হবে বাকি ৫ ম্যাচ জিতে কারুর উপর নির্ভর না করে ট্রফি জিতে নেওয়া।