
ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ড্র করে মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট যে আইএসএল চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে ধাক্কা খেয়েছে, সেটা স্পষ্ট। আইএসএল ট্রফি ধরে রাখতে হলে, ১৭ মে কলকাতা ডার্বিতে জিততেই হবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে। ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে সমর্থক থেকে শুরু করে ক্লাব কর্তাদের। তবুও চাপ নিতে নারাজ সের্জিও লোবেরা।
শেষ দু'ম্যাচে দলের যা শরীরী ভাষা, সার্জিও লোবেরার রণকৌশলে ফাঁক সবই অশনি সঙ্কেত বয়ে এনেছে বাগান শিবিরে। সমর্থকরা ক্ষুব্ধ। কর্তাদের একাংশও অসন্তুষ্ট। এমতাবস্থায় ফুটবলারদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর খুঁটিও সাজাতে হবে লোবেরাকে। যদিও কাশী ম্যাচের পর কোচের দাবি, তাঁদের ওপর চাপ নেই। পরিস্থিতি অবশ্য অন্য কথা বলছে। লোবেরার কথায়, 'চ্যাম্পিয়নশিপ এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। অঙ্ক সহজ। দুটি ম্যাচই জিততে হবে। কাশীর বিরুদ্ধে জিতলে বিজয়ী হওয়ার রাস্তা সহজ হত। তবে এই ম্যাচ নিয়ে আর ভাবতে চাই না। কোনও অজুহাতও দেব না।'
প্রথম একাদশে ৬টি পরিবর্তন নিয়ে অনেকেই সওয়াল তুলছেন। সূত্রের খবর, এরমধ্যে ৫টি বাধ্য হয়েই করতে হয়েছিল। আপুইয়া আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন। বড় ম্যাচেও তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, প্রশ্ন রয়েছে। অনিরুদ্ধ থাপা খেলার মতো শারীরিক অবস্থায় না থাকলেও বাধ্য হয়ে শেষদিকে নামাতে হয়েছিল। ক্লান্তির কারণে জেমি ম্যাকলারেন এবং লিস্টন কোলাসো ৪৫ মিনিটের বেশি খেলার অবস্থায় ছিলেন না। তিনটে হলুদ কার্ড দেখেছেন আলবার্তো রডরিগেজ। নির্বাসন এড়াতে তাঁকে কাশী ম্যাচে খেলানো হয়নি। শুভাশিস বসুকে বসানোর নেপথ্যে ছিল তাঁর সাম্প্রতিক পারফরমেন্স।
আপুইয়ার পরিবর্ত বাগান মাঝমাঠে নেই। আক্রমণ তৈরি করার লোকেরও অভাব। জেসন কামিংস, দিমিত্রি পেত্রাতোসের গ্রাফ ক্রমশ নিম্নগামী। লোবেরার হাতে একাধিক তারকা ফুটবলার থাকলেও এইমুহূর্তে সিংহভাগই ছন্দ হাতড়াচ্ছেন। ফলে ডার্বিতে মিগেল ফিগেরা, ইউসেফ ইজেজারিদের আটকানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে লোবেরার কাছে। বাগানের এই চাপের সময়ে মানসিকভাবেও কিছুটা এগিয়ে থেকে নামবে অস্কার ব্রুজোর দল।