
ইস্টবেঙ্গল হেড কোচ অস্কার ব্রুজোর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ময়দানে। নাম করে অস্কার তিন প্রাক্তন ফুটবলারকে 'ক্যানসার' ও 'দালাল বলায় রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছেন লাল-হলুদের প্রাক্তনী আলভিটো ডি'কুনহা, রহিম নবী ও সন্দীপ নন্দী। প্রত্যেকেই কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন কোচকে।
কোচিং ছেড়ে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ: সন্দীপ নন্দী
অস্কারের মন্তব্যের সবচেয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রাক্তন গোলরক্ষক সন্দীপ নন্দী। তিনি ব্রুজোকে আক্রমণ করে বলেন, 'উনি কোনও কোচই নন। ইস্টবেঙ্গলের এই দলটা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতোই দল, আর আইএসএল-এর মান আগের থেকে অনেক কমেছে। তাই দল যদি চ্যাম্পিয়নও হয়, তাতে অস্কারের কোনও কৃতিত্ব নেই।" অস্কারকে 'বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ' বলে কটাক্ষ করে সন্দীপ আরও যোগ করেন, "ওঁর মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা করানো উচিত। প্রাক্তনদের যদি ক্যান্সার মনে হয়, তবে উনি কোচিং ছেড়ে টাটা মেমোরিয়াল বা কোনও ক্যান্সার সেন্টারে গিয়ে ডাক্তার হিসেবে যোগ দিন।" নিজের সততা ও ২০ বছরের কেরিয়ারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সন্দীপ জানান, তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে অস্কারের দশবার ভাবা উচিত।
ইস্টবেঙ্গল ট্রফি পেলেই হল: আলভিটো ডি'কুনহা
অন্যদিকে, আলভিটো ডি'কুনহা বিষয়টিকে বেশ শান্তভাবেই সামলেছেন, তবে কোচের সমালোচনা করতে ছাড়েননি। আলভিটো জানান, 'অস্কার আমাদের এত গুরুত্ব দিয়েছেন দেখে ভালো লাগছে। তবে এসব আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার ছিলাম, আমি চাই ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হোক, আর মোহনবাগানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলে সবচেয়ে বেশি খুশি হব।' আলভিটোর মতে, অস্কার হয়তো কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে বা কোনও স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে ম্যাচের আগে কাউকে না কাউকে টার্গেট করেন। 'কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচের পর যখন 'গো ব্যাক অস্কার' স্লোগান উঠেছিল, তখন কি আমরা সমর্থকদের উস্কে দিয়েছিলাম? প্রাক্তনদের নাম নেওয়া খুব সহজ, তাই উনি আমাদের টার্গেট করছেন।' সাফ জবাব আলভিটোর।
অফিসিয়ালদের জামাই আদর পাচ্ছেন কোচ: রহিম নবী
প্রাক্তন ফুটবলার রহিম নবীও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দলের যখন চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই চলছে, তখন কোচের উচিত সেই দিকে মন দেওয়া। প্রাক্তন ফুটবলারদের সমালোচনা করে ফোকাস নষ্ট করা উচিত নয়। নবীর আক্ষেপ, 'আমরা এই ক্লাবের হয়ে, দেশের হয়ে খেলেছি। ক্লাবের জন্য আমাদের কী অবদান, সেটা এই কোচ জানেন না।' পাশাপাশি, নবী জানান যে, অস্কার ব্রুজোকে কর্তারা 'জামাই আদর' দিয়ে রেখেছেন, আর সেই কারণেই তিনি এসব বলার সাহস পাচ্ছেন।' তাঁর মতে, জেতার আগে যদি কোনও কোচ এমন নেতিবাচক কথা বলেন, তবে তাঁকে তৎক্ষণাৎ ছেঁটে ফেলা উচিত।
সব মিলিয়ে, মরসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোচের সঙ্গে প্রাক্তনদের এই কথার লড়াই ইস্টবেঙ্গলের অন্দরে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে। এখন দেখার, এই বিতর্কের প্রভাব মাঠের খেলায় পড়ে কি না!