
২১ বছরের যুগাবসান। শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালের অগাস্ট মাসে, আর শেষটা... ২০২৬-এর অক্টোবরে। বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়) আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচটা খেলেই ফেললেন লিওনেল মেসি। এবার নীল সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন ফুটবলের রাজপুত্র। নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচেও গোল করলেন লিওনেল।
শেষ ম্য়াচে কেমন খেললেন লিওনেল মেসি?
বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা গোল করলেন আবার জোড়া গোল করালেনও। ৩-০ তে বেনিনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জেতে আর্জেন্টিনা। এরমধ্যে ৪৮ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন নিকোলাস ওটামেন্ডি, দ্বিতীয় গোলটি ৬১ মিনিটে করেন নিকো পাস এবং ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন লিওনেল মেসি। এই নিয়ে দেশের হয়ে ১২৬ তম গোলটি করলেন লিওনেল। শেষ ম্যাচেও পারফর্মেন্সে বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি আর্জেন্টিনা তথা বিশ্ব ফুটবলের রূপকথার কারিগর।
উল্লেখ্য বিষয় হল এদিন মেসির মতোই আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচটা খেলে ফেললেন নিকোলাস ওটামেন্ডিও। ফলে আর্জেন্টিনা ফ্যানেদের জন্য যেন আজ জোড়া ধাক্কা।
তবে এদিন মেসিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় জানাতে বিশাল আয়োজন করা হয়। গত কোপা আমেরিকার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া মেসির দীর্ঘদিনের টিমমেট অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া এদিন মাঠে হাজির ছিলেন। গ্যালারিতেও পরিচিত মুখের মধ্যে দেখা গিয়েছিল কিংবদন্তি ফরাসি স্ট্রাইকার ডেভিড ট্রেজেগেটকেও।
নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর কী বললেন মেসি?
ম্যাচ শেষের পর ড্রোন শো এবং সংগীতানুষ্ঠানের পর ফ্যান ও টিমমেটদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন লিওনেল মেসি। তিনি বলেন, "আমার ইচ্ছে করছে সারা জীবন খেলা চালিয়ে যেতে, কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। গত বিশ্বকাপটা ছিল অসাধারণ। আমরা স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি ছিলাম, খুবই কাছাকাছি। আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়েছি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা আমাদের জন্য প্রচণ্ড চাপের ছিল। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তৈরি হয়েছিল। আবেগগত এবং শারীরিক দিক থেকে আমরা আমাদের শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমরা সারাজীবন ধরে লড়াই করেছি। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে আমি এবং আমার সকল সতীর্থ এই জার্সির জন্য সবসময় নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।"
তিনি বলেন, "সারাদেশে ঘুরে ঘুরে খেলার এই ব্যাপারটা আমি খুব মিস করব। আমরা যেখানেই গিয়েছি, প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। এই সবকিছুর জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এটা হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন। কিন্তু, আমি এই প্রজন্মের সমর্থনে তোমাদের পাশে থাকব। আমরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকব। যখন আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, তখন আমরা অন্য সবার চেয়ে শক্তিশালী। এমন কিছু লোক আছে যারা জাতীয় দলের সাফল্য দেখতে চায় না। আমাদের তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা একটি অসাধারণ দল ছিলাম, আর সে কারণেই আমরা যা জিতেছি তা জিতেছি।"