Advertisement

ISL North East Vs Mohunbagan: বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে রবিনহোর জাদু, নর্থ ইস্টকে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে মোহনবাগান

ISL North East Vs Mohunbagan: এই জয়ের মাহাত্ম্য মোহনবাগানের কাছে অনেক বেশি। কারণ, এবারের আইএসএলে এটাই সবুজ-মেরুনের প্রথম অ্যাওয়ে জয়। মুম্বই সিটি এফসি গত শনিবার গোয়ার কাছে হেরে যাওয়ায় বাগানের সামনে শীর্ষে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ এসে গিয়েছিল। সেই সুযোগ এক চুল নষ্ট হতে দেননি সের্জিও লোবেরা।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে রবিনহোর জাদু, নর্থ ইস্টকে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে মোহনবাগানবৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে রবিনহোর জাদু, নর্থ ইস্টকে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে মোহনবাগান
Aajtak Bangla
  • গুয়াহাটি,
  • 20 Apr 2026,
  • अपडेटेड 12:25 AM IST

ISL North East Vs Mohunbagan: রবিবার গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে স্রেফ ফুটবল নয়, যেন জলযুদ্ধ চলল। প্রবল বর্ষণ, আকাশ চেরা বজ্রপাত আর মাঠের জল জমার কারণে ম্যাচ বাতিলের উপক্রম হয়েছিল। প্রথমার্ধ শেষে রবসনের গোলে মোহনবাগান ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও মাঠের অবস্থা দেখে বিরতির পর খেলা শুরু করা প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল। গোড়ালির ওপর জল জমে যাওয়ায় ১ ঘণ্টা ১৩ মিনিট রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা করতে হয়। শেষপর্যন্ত রেফারি ক্রিস্টাল জন মাঠকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে জল সরিয়ে যখন খেলা শুরু করলেন, তখন বাগান শিবিরের লক্ষ্য ছিল একটাই, তিন পয়েন্ট পকেটে পুরে লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠা। দ্বিতীয়ার্ধেও বৃষ্টি জারি ছিল, কিন্তু লোবেরার ছেলেরা দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিলেন। ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে এখন লিগ টেবিলের মগডালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।

এই জয়ের মাহাত্ম্য মোহনবাগানের কাছে অনেক বেশি। কারণ, এবারের আইএসএলে এটাই সবুজ-মেরুনের প্রথম অ্যাওয়ে জয়। মুম্বই সিটি এফসি গত শনিবার গোয়ার কাছে হেরে যাওয়ায় বাগানের সামনে শীর্ষে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ এসে গিয়েছিল। সেই সুযোগ এক চুল নষ্ট হতে দেননি সের্জিও লোবেরা। প্রথম চার ম্যাচ জেতার পর টানা তিন ম্যাচ জয়হীন থেকে বাগান ব্রিগেড কিছুটা চাপে ছিল। যদিও গত ম্যাচে পাঞ্জাব এফসি-কে ৩-২ গোলে হারিয়ে তারা জয়ে ফিরেছিল, কিন্তু দলের রক্ষণ নিয়ে খুশি ছিলেন না কোচ। তাই নর্থ ইস্ট ম্যাচে তিনি কোনও ঝুঁকি নেননি। চোট সারলেও পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় আপুইয়াকে দলেই রাখেননি। এমনকি চোটগ্রস্ত আলবার্তো রডড্রিগেজকেও গুয়াহাটি নিয়ে যাননি কোচ।

লোবেরার ৪-৪-১-১ ছকে রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব ছিল টম আলড্রেড ও মেহতাবের কাঁধে। আক্রমণে সাহাল শুরু থেকেই খেলায় গতি আনেন। অন্যদিকে, নর্থ ইস্ট শিবির ছিল কার্যত ছন্নছাড়া। ডুরান্ড চ্যাম্পিয়নরা তাদের প্রধান গোলমেশিন আলাদিন আর উইঙ্গার জিতিন এমএস-কে ছাড়া মাঠে নেমে একেবারেই সুবিধা করতে পারেনি। সেই সুযোগে ম্যাচের বয়স যখন মাত্র ৫ মিনিট, তখনই রবসনের জাদুকরী গোল। লিস্টনের থ্রো থেকে কামিংস বল বাড়িয়েছিলেন সাহালকে। সাহালের সূক্ষ্ম কাট ব্যাক ধরে নর্থ ইস্ট বক্সের মাঝে চমৎকার বাঁক খাওয়ানো শটে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন রবসন। গোলরক্ষক গুরমিতের শুধু চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।

Advertisement

এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। সাহাল, লিস্টন এবং ম্যাকলারেনের প্রচেষ্টাগুলি কখনও ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে, কখনও আবার অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় ব্যবধান বাড়েনি। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময় থেকেই শুরু হয় বিধ্বংসী বৃষ্টি। বিরতির সময় মাঠের পরিস্থিতি দেখে ম্যাচ কমিশনার বিনোদ সিং ফুটবলারদের মাঠে নামতে বারণ করেন। মাঠকর্মীরা পাম্প চালিয়ে জল সরানোর পর ১ ঘণ্টা ১৩ মিনিট দেরিতে খেলা শুরু হয়। দ্বিতীয়ার্ধেও কাদা মাঠে বল নিয়ন্ত্রণ করা দুষ্কর ছিল। নর্থ ইস্ট কোচ পেড্রো বেনালি বারবার ম্যাচ বন্ধের আবেদন জানালেও রেফারি সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। মাঠের ঘাসের নিচে জল থাকা সত্ত্বেও খেলা কেন চালানো হল, এই দাবিতে রেফারির দিকে তেড়ে যান নর্থ ইস্ট কোচ বেনালি। মেজাজ হারিয়ে রেফারিকে হেনস্থা করায় শেষ পর্যন্ত লাল কার্ড দেখতে হয় তাঁকে। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে মোহনবাগান এখন খুশির হাওয়ায় ভাসছে। ২০ পয়েন্ট নিয়ে সিংহাসন দখল করে লোবেরার দল প্রমাণ করে দিল, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা সেরা। দলের ফুটবলার বিশাল, মেহতাব, শুভাশিস থেকে শুরু করে বদলি হিসেবে নামা কিয়ান বা অময়, প্রত্যেকেই নিজেদের উজাড় করে দিয়ে এই ঐতিহাসিক অ্যাওয়ে জয় নিশ্চিত করেছেন।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement