
ডুরান্ড কাপও মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস জিতে যেত, যদি না নর্থইস্টে খেলতে পাঠানো হত। ইস্টবেঙ্গলকে খোঁচা এমনই দাবি করলেন মোহনবাগান সচিব দেবাশিস দত্ত। একই সঙ্গে কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিসের উপরেও পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ক্লাব।
ডুরান্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ১-৪ গোলে হেরে ট্রফি হারানোর স্মৃতি এখনও টাটকা সমর্থকদের মনে। আইএসএল হার দিয়ে শুরু হয়েছে মোহনবাগানের। পরের দুই ম্যাচ জিতলেও দাপট দেখাতে পারেনি। সমর্থকদের একাংশ কোচের দিকে আঙুল তুলছেন। কিন্তু সেই কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিসের উপর ভরসা রাখছেন মোহনবাগানের সভাপতি দেবাশিস দত্ত ও সচিব সৃঞ্জয় বসু।
কোচের উপরেই ভরসা দেবাশিস, সৃঞ্জয়দের
দেবাশিসের কথায়, 'কোচ খুবই বিদগ্ধ। তিনি যদি কোনও ভুল করেন,একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, বিশ্বফুটবলের এটাই নিয়ম, তা হল, হাফ টাইমে যে কোচ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, সেই হলেন বড় কোচ। কোচের উপর আমাদের আস্থা রাখতে হবে। এখানে একটা কথা বলতে চাই, যখন থেকে মোহনবাগান সঞ্জীব গোয়েঙ্কার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে টিম বানিয়ে খেলছে, তার মধ্যে এই ভদ্রলোকের মোহনবাগান ক্লাব সম্পর্কে যে আন্তরিকতা আছে, যে ভাবে মোহনবাগান ক্লাবের ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা আছে, আগের কোচেরা এতটা আন্তরিক ছিলেন না। তাঁরা শুধু মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট টিমকে নিয়ে ভাবতেন। কিন্তু এই কোচ মোহনবাগান ক্লাবের ঐতিহ্য, ইতিহাস নিয়ে ভাবেন। এবং সেই জায়গায় সাফল্য পেতে চাইছেন। আমরা ডুরান্ডও পেতাম, যদি না আমাদের ইচ্ছাকৃত ভাবে নর্থইস্টে খেলতে পাঠানো হত। আমরা আইএসএল-এ হেরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।'
ডুরান্ডের হারের পিছনে উত্তর-পূর্ব ভারতে খেলতে যাওয়া দায়ী
দেবাশিসের দাবি, চলতি মরসুমে এখনও পর্যন্ত তিনটি প্রতিযোগিতায় খেলেছে মোহনবাগান। তার মধ্যে দু’টিতে চ্যাম্পিয়ন এবং একটিতে রানার্স হয়েছে দল। তাই এখনই উদ্বেগের কোনও কারণ দেখছেন না তিনি। দেবাশিস বলেন, 'আমরা এই মরসুমে ১০টি ম্যাচ খেলেছি। আটটি জিতেছি, দু’টিতে হেরেছি। তাই চিন্তার কোনও কারণ নেই। খেলায় হার-জিত থাকবেই। ধীরে ধীরে উন্নতি করাই ভাল। শুরুতেই গ্রাফ অনেক উপরে উঠে গেলে পরের দিকে তা নেমে যায়। এ বারের দল খুব ভাল। আমার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত দল আরও ভাল খেলবে।' ডুরান্ড কাপের প্রসঙ্গেও নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন মোহনবাগান সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, সেমিফাইনাল খেলতে উত্তর-পূর্ব ভারতে পাঠানোর কারণে ডুরান্ড জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে দলের। একই মত সৃঞ্জয়েরও।
কলকাতা লিগ নিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে খোঁচা
দীর্ঘ লিগে প্রতিটি ম্যাচ জেতা সম্ভব নয় বলেই মনে করেন সৃঞ্জয় বসু। তাঁর মতে, জয়, হার ও ড্র, সব মিলিয়েই লিগের আসল মজা। তিনি বলেন, 'একটা ম্যাচ জিতব, একটা হারব, একটা ড্র করব, আবার পরের ম্যাচ জিতব। প্রতিটি ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘটনা ইতিহাসে হয়েছে কি না, জানি না।' সৃঞ্জয়ের এই মন্তব্যের পরেই কলকাতা লিগের প্রসঙ্গ টেনে আনেন দেবাশিস। সরাসরি কোনও ক্লাবের নাম না করেই তিনি বলেন, “কলকাতা লিগে হত। একটা বিশেষ ক্লাবের জন্য এটা হত। কিন্তু খেলাধুলো যেখানে ঠিকমতো হয়, সেখানে এমনটা হবে না।' দেবাশিসের কথায় সায় দিয়ে সৃঞ্জয়ও বলেন, 'হ্যাঁ, কলকাতা লিগে এ বার শেষে এমন আইন করা হয়েছিল, যাতে একটা বিশেষ ক্লাব জিতে যায়। সেটা হল না।'