
জামশেদপুর ম্যাচে থেকে তিন পয়েন্ট পেয়ে লিগ শীর্ষে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারাল মোহনবাগান। লিস্টন কোলাসোর করা অনবদ্য গোলে গোটা ম্যাচে এগিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত সময়ে জামশেদপুর এফসিকে সমতায় ফেরান পরিবর্ত হিসেবে নামা ঋত্বিক দাস। সব থেকে বড় কথা, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জামশেদপুর কোচ ওয়েন কোয়েলের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে কার্যত ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলালেন বাগান কোচ।
সঙ্গে ছিল দলের তারকা ফরোয়ার্ডদের ভুরিভুরি গোল মিস। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শেষে বিধ্বস্ত বাগান অধিনায়ক শুভাশিস বোস দলের আক্রমণভাগের উপরেই বিষোদগার করে মাঠ ছাড়লেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রে স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'জেতা ম্যাচ আমরা আজ মাঠে ফেলে এলাম। নিশ্চিত ৩ পয়েন্ট আজ আমরা হারিয়েছি। তাই খারাপ লাগাটা খুব স্বাভাবিক। ফরওয়ার্ডরা এত সুযোগ পেয়েও যদি গোল না করতে পারে, তাহলে আর কী বলার থাকে।'
যদিও জেতা ম্যাচ ড্র করেও নির্বিকার বাগান কোচ সার্জিও লোবেরা। সাংবাদিক সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, 'আমরা টেবিলের শীর্ষ থেকেই লিগ শেষ করতে চাই। এখনও ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আমরা লিগের প্রথমেই রয়েছি। ম্যাচের শেষের আগে গোল হজম করা উচিত হয়নি। মুম্বইকেও জামশেদপুরে এসে ম্যাচ খেলতে হবে। লিগের এখনও অনেকটাই বাকি।'
অন্যদিকে জামশেদপুরের নায়ক ঋত্বিক দাস বলে গেলেন, 'মোহনবাগানের মত দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ ড্র করাটা আমাদের কাছে কার্যত জয়েরই সমান। এখানে আমার একার কৃতিত্ব নেই। পরিবর্ত হিসেবে যারা নেমেছে তাঁরা প্রত্যেকেই দারুণ খেলেছে। এই গোলটা আমি আমার মাকে উৎসর্গ করতে চাই।'
তবে ম্যাচ শেষে জামশেদপুর সমর্থকদের সঙ্গে বচসা ও মারামারির জেরে মাথা ফাটল বালির মোহনবাগান সমর্থক রাজীব রায়ের। গতবারের স্মৃতির কথা মাথায় রেখে জামশেদপুরে মোহনবাগান সমর্থকদের জন্য আলাদা গ্যালারি করা হয়েছিল। তাতেও অশান্তি এড়ানো গেল না। মাথা ফেটে যাওয়ায় ১০টা সেলাই পড়ল মোহনবাগান সমর্থকের মাথায়।