
ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হলেন জিনেদিন জিদান। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (FFF)। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দিদিয়ের দেশঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ৫৪ বছর বয়সী জিদান।
বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থানে শেষ করেই দেশঁর ১৪ বছরের কোচিং অধ্যায়ের ইতি ঘটে। সেমিফাইনালে পরবর্তী চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে পরাজিত হয় ফ্রান্স। যদিও আগে থেকেই ঠিক ছিল, বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন।
অন্যদিকে, ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর এই প্রথম কোচিংয়ে ফিরলেন জিদান। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে ফ্রান্সের জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সতীর্থ দেশঁর উত্তরসূরি হিসেবেই শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পেলেন তিনি।
যে ফুটবলার হিসেবে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন, এবার সেই জিদানের লক্ষ্য কোচ হিসেবে নতুন প্রজন্মকে আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষে পৌঁছে দেওয়া। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে তিনি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছেন।
কোচ হিসেবে জিদানের সাফল্য
জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম দায়িত্ব হলেও ক্লাব ফুটবলে তাঁর সাফল্য ঈর্ষণীয়। ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দুই দফায় রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন তিনি। তাঁর অধীনেই রিয়াল টানা তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ইতিহাস গড়ে ইউরোপের সেই ক্লাব।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে জিদানের বড় সাফল্য:
জিদানের প্রথম পরীক্ষা হবে চলতি বছরের উয়েফা নেশনস লিগে। সেখানে ফ্রান্স একই গ্রুপে রয়েছে তুরস্ক, বেলজিয়াম ও ইতালির সঙ্গে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তুরস্কের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাঁর কোচিং অধ্যায় শুরু হবে। এরপর তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে ইউরো ২০২৮ এর যোগ্যতা অর্জন পর্বের জন্য দলকে প্রস্তুত করা। এমবাপের মতো অভিজ্ঞ তারকা ও উদীয়মান প্রতিভায় ভরপুর ফরাসি দলকে আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলের শিখরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এখন জিদানের কাঁধে।