
২২ বছর পর লিগ এসেছে লাল-হলুদে। জয়ের কারিগর কোচ অস্কার ব্রুজো জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি আর পরের মরসুমে কোচ থাকতে চান না। তবুও ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হয়। তবুও তাতে বরফ গলেনি। শনিবার বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ইস্টবেঙ্গলে না থাকার কথা আরও একবার জানিয়ে দিলেন অস্কার।
তবে কি গন্তব্য মোহনবাগান?
গত মরসুমেই অস্কারের পছন্দের ফুটবলার রবসন রবিনহোকে সই করিয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। তবে এবার আরও বড় ধাক্কা দিয়েছে তারা। লাল-হলুদের লিগ জয়ের ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখা মিগুয়েল ফিগুয়েরাকে সই করানোর পথে সবুজ-মেরুন ক্লাব। এরপর কি তারা অস্কারকেও দলে নেবে? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, দল গঠনের কাজ শুরু হলেও, কোচের নাম জানায়নি মোহনবাগান। অনেকের নাম জল্পনায় থাকলেও, কোনও নামেই পড়েনি শিলমোহর। তবে কোচের নির্দেশ ছাড়া দল গঠন করে না মোহনবাগান। আর সে কারণেই মনে করা হচ্ছে অস্কারও মোহনবাগানেই যেতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অস্কার লেখেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অস্কার লেখেন, 'আমি সাম্প্রতিক জল্পনা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে চাই। ইস্টবেঙ্গল আমাকে প্রধান কোচ হিসেবে চুক্তি নবীকরনের সরকারি প্রস্তাব দিয়েছিল এবং তাদের এই আস্থার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। অনেক ভেবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ইস্টবেঙ্গলে আর কাজ করব না। এটা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না, তবে আমার কেরিয়ারের এই পরবর্তী পর্যায়ের জন্য এটিই সঠিক সিদ্ধান্ত। আমরা একসঙ্গে যা গড়েছি, তার জন্য আমি গর্বিত। এএফসি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে পৌঁছনো, ২২ বছরের অপেক্ষার পর আইএসএল শিরোপা জয় এবং দুটি মেজর কাপ ফাইনালে অংশগ্রহণ। এই সবকিছু সম্ভব হত না ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট, খেলোয়াড়, স্টাফ এবং আপনাদের, আমাদের অসাধারণ আমাগো ফ্যানস ছাড়া, যারা পুরো মরসুম জুড়ে আমাদের পাশে ছিলেন। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ, ইস্টবেঙ্গল। আমার পরবর্তী অধ্যায় যথাসময়ে জানানো হবে।'
পরপর দুই ধাক্কা
লিগ জেতার পরেও ইমামির সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের গাঁটছড়া প্রশ্নের মুখে। কারণ, এত বেশি পরিমাণ টাকা দিতে নারাজ ইনভেস্টররা। ফলে বিকল্পের সন্ধান করতে হচ্ছে লাল-হলুদ ক্লাবকে। এর মধ্যেই সুযোগের সদব্যবহার করছে মোহনবাগান। প্রথমে মিগুয়েল আর তারপরে রাহুল ভেকেকে সই করিয়ে নিয়েছে তারা। শুধু তাই নয়, বসিনিয়ার জাতীয় দলে খেলা ফুটবলার সামীর জেলজোকোভিচকেও সই করিয়ে ফেলেছে তারা। ফলে দল গঠনে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে মোহনবাগান।