
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে খেলছেন সরপ্রীত সিং। একথা সকলেরই জানা। অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করা পঞ্জাবি ফুটবলারকে নব্বই মিনিট পর্যন্ত মাঠে রাখেন কোচ ড্যারেন বেজলি। ৯০তম মিনিটে তাঁকে তুলে নেন। এর সঙ্গেই ইতিহাস গড়ে ফেললেন সরপ্রীত। ইরানের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে নিউজিল্যন্ডও। তবে তিনি একা নন, আরও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার উঠে আসুক, এমনটাই চান সরপ্রীত।
এই ম্যাচের পর রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সরপ্রীত বলেন, 'প্রথম হতে পেরে এবং বাকিদের জন্য পথ তৈরি করে দিতে পেরে আমি খুব খুশি। আমি আশা করি, আরও অনেক সিং, শিখ, পঞ্জাবি এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার উঠে আসবে।' অস্ট্রেলিয়ার ফরোয়ার্ড নিশান ভেলুপিল্লাই এর আগে বিশ্বকাপে খেলে ফেলেছেন। যার মায়ের পূর্বপুরুষরা দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দা, এবং কাতারের উইঙ্গার তাহসিন জামশিদ এই বিশ্বকাপে খেলছেন।
কয়েক বছর আগে ভারতে নিউজিল্যান্ডের একটি টুর্নামেন্ট খেলার সময় তিনি যে সমর্থন পেয়েছিলেন, তাতে সরপ্রীত আজও অভিভুত। তিনি বলেন, 'আমি সবসময়ই জানি যে আমি তাদের (পড়ুন ভারতীয়দের) এবং একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছি, তাই আমি সবসময় আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টাই করি।'
অকল্যান্ডে জন্ম ২৭ বছরের ফুটবলারের। জন্মসূত্রে পঞ্জাবি। লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথম একাদশে শুরু করেন সরপ্রীত। ১০ নম্বর জার্সি পরে নামেন। প্রায় পুরো ম্যাচ খেলেন। গোল লক্ষ্য করে তিনটে শট নেন। খেলা ২-২ গোলে শেষ হয়। এর আগে ভারতে খেলে গিয়েছেন। ২০১৮ সালে মুম্বইয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে সুনীল ছেত্রীদের বিরুদ্ধে খেলেন। কেনিয়ার বিরুদ্ধে গোলও করেন। ভারতের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুটো অ্যাসিস্টও করেন।
২০১৯ সালে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে জার্মানির সেরা লিগে খেলার সুযোগ পান। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে হাতেখড়ি হয়। রিজার্ভ দলের হয়ে ভাল পারফরমেন্স সরপ্রীতের সিনিয়র দলের হয়ে খেলার দরজা খুলে দেয়। তাঁকে সুযোগ দেন হ্যান্সি ফ্লিক। পরবর্তীতে বায়ার্নের বুন্দেসলিগা জয়ী দলের সদস্য হন। পর্তুগাল এবং সার্বিয়াতে খেলার পর এই বছরই নিউজিল্যান্ডে ফেরেন। চোট সরিয়ে নিউজিল্যান্ডের ২৬ জনের দলে জায়গা পান। এর আগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে খেলেন বিকাশ ধোরাসু। ২০০৬ বিশ্বকাপে পরিবর্ত ফুটবলার হিসেবে নামেন ফরাসি মিডফিল্ডার।