
FIFA World Cup 2026-এ প্রথমবার সুযোগ পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। এবারেই কিউইরা প্রথমবার ফুটবল বিশ্বকাপ খেলছে। ফুটবল বিশ্বকাপে ১৬ জুন নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হবে ইরানের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হবে সেই ম্যাচ। ওই দিন আরও একটি ইতিহাস রচিত হতে চলেছে। তা হল, নিউজিল্যান্ড ফুটবল টিমে মিডফিল্ডে খেলবেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সরপ্রীত সিং। ২০০৬ সালে শেষবার কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্লেয়ারকে বিশ্বকাপে দেখা গিয়েছিল, তিনি ছিলেন বিকাশ ধোরাসু, ফ্রান্সের হয়ে খেলেছিলেন। তারপর ২০২৬ সালে খেলছেন সরপ্রীত।
সরপ্রীতের পরিবারের শিকড় পঞ্জাবের জলন্ধরে
ভারতীয় দল ফুটবল বিশ্বকাপে সুযোগ পায় না। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও অনেক পিছনে। এই পরিস্থিতিতে একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে বিশ্বকাপের মাঠে দেখা যাওয়া খুব সামান্য হলেও, প্রাপ্তি তো বটেই। সরপ্রীত নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। সরপ্রীতের পরিবারের শিকড় পঞ্জাবের জলন্ধরে। সরপ্রীতের ফুটবল জার্নি শুরু অনেক ছোট বয়সেই। নিউজিল্যান্ডে ফুটবলের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় রাগবি ও ক্রিকেট। তা সত্ত্বেও সরপ্রীত ফুটবলেই মজেছিলেন ছেলেবেলা থেকে।
২০১৫ সালে ওয়েলিংটন ফিনিক্স অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন তিনি। তার আগে স্থানীয় ক্লাবে খেলতেন। OFC Under-17 চ্যাম্পিয়নশিপে ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ড টিমের হয়ে ডেবিউ ম্যাচ খেলেছিলেন সরপ্রীত। পরবর্তীকালে ২০১৭ ও ২০১৯ সালে FIFA আন্ডার ২০ বিশ্বকাপে খেলেন তিনি। ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডের সিনিয়র টিমে প্রথমবার খেলতে নামে সরপ্রীত। মুম্বইয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে কেনিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে যে গোলটি করেছিলেন সরপ্রীত, ওটাই ছিল তাঁর নিউজিল্যান্ড ন্যাশনাল টিমের হয়ে প্রথম গোল।
সচিনের ভক্ত সরপ্রীত সিং
ওই কাপে ভারতকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেই ম্যাচেও নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছিলেন সরপ্রীত। নিজে ফুটবলার হলেও ক্রিকেটকে ভীষণ ভালোবাসেন। বিশেষ করে সচিন তেন্ডুলকারের ভক্ত। বারবার সচিনের নামও শোনা যায় সরপ্রীতের মুখে। অকল্যান্ডে সরপ্রীত তাঁর বাড়ির পিছনের মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট, দুই খেলতেন। ২০১৮-১৯ মরশুমে ওয়েলিংটন ফিনিক্সের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে প্রথমবার আলোচনায় আসেন সরপ্রিত সিং। তাঁর সেই ঝলমলে ফুটবল নজর কেড়েছিল ইউরোপের একাধিক স্কাউটের। তারই ফলস্বরূপ ২০১৯ সালে জার্মানির শক্তিশালী ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন তিনি। এই ট্রান্সফার ছিল ঐতিহাসিক। সরপ্রীত সিংই প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। পাশাপাশি, কিংবদন্তি উইন্টন রুফারের পর তিনিই প্রথম নিউজিল্যান্ডের ফুটবলার, যিনি বুন্দেসলিগায় খেলার সুযোগ পান।
ইউরোপে স্কিল আরও উন্নত হয় সরপ্রীতের
যদিও বায়ার্নের মূল দলে নিয়মিত সুযোগ পাওয়া সহজ ছিল না, তবুও ইউরোপে কাটানো সময় তাঁর ফুটবল জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জার্মানি-সহ ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলে তিনি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন, নিজের খেলার মান আরও উন্নত করেন এবং আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন।