
অনবদ্য সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। জার্সি বদলালেও একই রকম উজ্জ্বল বাংলার এই ফুটবলার। ৪-০ গোলে মামনি পাঠচক্রের বিরুদ্ধে জয় পেল মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। বহুদিন পর ফ্লাডলাইটের আলোয় মোহনবাগান মাঠে ফিরল জমকালো সেই আবহ। আর শেষবেলায় ছিল সবুজ-মেরুন পায়রো শো।
প্রতিপক্ষ সম্পর্কে খুব একটা ধারণা না থাকলেও এবারের লিগে নামার আগে বেশ কিছুদিন প্রস্তুতির সময় পেয়েছেন ঘরোয়া লিগে মোহনবাগানের দায়িত্বে থাকা কোচ বাস্তব রায়। সিনিয়র দল থেকে ম্যাচ টাইম দেওয়ার জন্য আনা হয়েছে সুহেল, কিয়ান, দীপেন্দুদের। পাঠচক্র গতবার ভালো ফর্মে ছিল। এবারও শুরুটা খারাপ করেনি। নিজেদের খেলা গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় নেয় মোহনবাগান। সেখানে পাঠচক্রের সৌভিক অধিকারীরা কাউন্টারে বারবার বিব্রত করছিলেন রাজ বাসফোরদের।
কিন্তু সায়নের পায়ে বল পড়লেই ভয়ঙ্কর। বাঁদিক থেকে গতিতে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিলেন পাঠচক্রকে। তবে শুরুতে কিয়ান একবার ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে পারেননি। আবার সায়নের ক্রসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ সুহেল আহমেদ ভাট। নাহলে প্রথম ১৫ মিনিটেই ৩ গোলে এগিয়ে যেত মোহনবাগান। অবশেষে প্রথম গোল এল ২১ মিনিটে। বাঁদিক থেকে ঝড়ের গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন সায়ন। ভারসাম্য হারিয়েও ক্রস রাখেন। পাঠচক্রের গোলকিপারের ভুলে বল গোললাইন পেরিয়ে যেতে পারত। সেটা না হলেও বাকি কাজটা শেষ করেন কিয়ান নাসিরি। প্রথমার্ধে আর কেউ গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট ছিল সবুজ-মেরুনেরই। ৬৫ মিনিটে রাজ বাসফোরের থ্রু বল থেকে রোহিত ক্রস রাখেন। পিছন থেকে এসে ফাঁকা গোলে বল জড়িয়ে দেন সুহেল। মোহনবাগানের একটি গোললাইন সেভও হয়। ৯০ মিনিট পর্যন্ত আর গোলের দেখা মেলেনি। শেষবেলায় ফের জ্বলে ওঠে মোহনবাগান। গোল পেলেন সায়ন ও বিভান। গোটা ম্যাচে যা খেলেছে, তাতে সায়নের গোল প্রাপ্যই ছিল। তবে সুহেল এখনও স্লো। সেটুকু কাটিয়ে উঠলেই মোহনবাগানের টিম গেম অন্য দলগুলোকে আরও বিপাকে ফেলবে। ম্যাচের পর গ্যালারিতে সবুজ-মেরুন পায়রো শোতে ষোলো কলা পূর্ণ!