
ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে পর্তুগাল। হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করার পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ফ্রান্স ও আর্সেনালের প্রাক্তন তারকা স্ট্রাইকার থিয়েরি হেনরি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, দলের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত গোল করার ইচ্ছাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন রোনাল্ডো।
ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে হেনরি একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের উল্লেখ করেন, যা তাঁর মতে পর্তুগালের আক্রমণভাগের মূল সমস্যাকে সামনে এনে দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে জোয়াও ক্যানসেলো ও ব্রুনো ফার্নান্দেসের তৈরি করা একটি আক্রমণে রোনাল্ডোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
হেনরির বক্তব্য, একজন স্ট্রাইকার হিসেবে রোনাল্ডোর উচিত ছিল ডিফেন্ডারদের টেনে নিয়ে গিয়ে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করা। কিন্তু গোল করার তাড়নায় তিনি বলের কাছাকাছি চলে আসেন, ফলে একই জায়গায় একাধিক খেলোয়াড় জমা হয়ে যায় এবং ডিআর কঙ্গোর রক্ষণভাগের কাজ সহজ হয়ে যায়।
হেনরি বলেন, 'ফুটবলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দল গোল করুক। গোলটা আপনাকেই করতে হবে এমন নয়। যদি রোনাল্ডো ছয় গজের বক্সের দিকে দৌড় দিতেন, তাহলে ডিফেন্ডারদের সিদ্ধান্ত নিতে হতো এবং ব্রুনো ফার্নান্দেসের সামনে সহজ সুযোগ তৈরি হতে পারত। কিন্তু তিনি গোলের খোঁজে সতীর্থের জায়গাতেই চলে যান।'
বিশ্বকাপজয়ী এই ফরাসি কিংবদন্তির মতে, পর্তুগালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন কৌশলগত নয়, বরং দলের স্বার্থ ও রোনাল্ডোর ব্যক্তিগত রেকর্ডের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করা।
ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ম্যাচে রোনাল্ডোর পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন এবং লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেননি। ফলে শক্তিশালী মধ্যমাঠ থাকা সত্ত্বেও পর্তুগাল কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ফুটবল বিশ্বে আলো কেড়েছেন অন্য তারকারা। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে লিওনেল মেসি নতুন ইতিহাস গড়েছেন। কিলিয়ান এমবাপে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। আবার বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে নজর কেড়েছেন আর্লিং হালান্ড। সেই তুলনায় রোনাল্ডোর নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স আরও বেশি করে সমালোচনার মুখে ফেলেছে তাঁকে।
তবে পর্তুগালের সমস্যার জন্য শুধুমাত্র রোনাল্ডোকেই দায়ী করছেন না বিশেষজ্ঞরা। ব্রুনো ফার্নান্দেস, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনহা ও জোয়াও নেভেসদের মতো তারকাখচিত মধ্যমাঠও ডিআর কঙ্গোর সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে।
তবুও হেনরির মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তাঁর স্পষ্ট মত, পর্তুগালের লক্ষ্য যদি বিশ্বকাপ জেতা হয়, তাহলে ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, দলগত সাফল্যকেই সর্বাগ্রে রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, রোনাল্ডোর সামনে এখনও ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে। আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি ছয়টি পৃথক বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নজির গড়বেন। তবে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ব্যক্তিগত মাইলফলকের পেছনে ছুটতে গিয়ে পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন কি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?