
ক্রিকেটের প্রযুক্তি এবার ব্যবহার হচ্ছে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026)। সুইডেন বনাম তিউনিশিয়া (Sweeden vs Tunisia) ম্যাচে স্নিকো মিটার (Snico Meter) ব্যবহার করে গোল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন রেফারি। ম্যাচটা সুইডেন ৫-১ গোলে জিতলেও সব কিছু ছাপিয়ে এখন আলোচনায় এই প্রযুক্তি।
কীভাবে বৈধতা পেল গোল?
সেই প্রযুক্তির সাহায্যেই নাটকীয়ভাবে বৈধতা পেল মাটিয়াস সভানবার্গের গোল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে বদলি নেমে দ্রুততম গোলের রেকর্ড স্পর্শ করা সেই গোলের ম্যাচেই তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সুইডেন। ৮৪ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মাটিয়াস সভানবার্গ। মাঠে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি বল জালে জড়ালেও সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলেন।
কিন্তু VAR-এ দেখা যায়, ফ্রি-কিক থেকে আসা বল সভানবার্গের কাছে পৌঁছানোর আগে আলেকজান্ডার ইশাকের বুটের ডগা স্পর্শ করেছিল। খালি চোখে বোঝা না গেলেও স্নিকো প্রযুক্তিতে সেটা ধরা পড়ে। ফলে অফসাইডের সিদ্ধান্ত বাতিল করে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এটা নিয়ে দ্রুত চর্চা শুরু হয়। পরে দেখানো হয় স্নিকো মিটারের ব্যবহার করা হয়েছিল। এই প্রযুক্তি ক্রিকেটে বহু বছর ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন সভানবার্গ। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মাঠে নামার মাত্র ১২ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করেন তিনি। যদিও একাধিক পরিসংখ্যান সংস্থা এই সংখ্যাটাকে ১৮ সেকেন্ড এবং ১৬ সেকেন্ড বলে দাবি করছে। তবে তিনি বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে দ্রুততম গোলদাতাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। বর্তমানে রেকর্ডটি রয়েছে ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে উরুগুয়ের রিচার্ড মোরালেসের, যিনি বদলি নেমে ১৬ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন।
মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘F’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সুইডিশরা। ইয়াসিন আয়ারির জোড়া গোলের পাশাপাশি একটি করে গোল করেন আলেকসান্দার ইসাক, ভিক্টর গেয়োকেরেসে এবং মাটিয়াস সভানবার্গ। তিউনিশিয়ার একমাত্র গোলটি আসে ওমর রেকিকের পা থেকে।
শুরুতেই আঘাত হানে সুইডেন
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় সুইডেন। তিউনিশিয়ার গোলরক্ষক আবদেলমুহিব শামাখ বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করেন ইয়াসিন আয়ারি।
৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলেকসান্দার ইসাক। ভিক্টর গেয়োকেরেসে পাস থেকে দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে ডি-বক্সের সামনে পৌঁছে নিচু শটে গোল করেন তিনি। তবে বিরতির আগে ম্যাচে ফেরে তিউনিশিয়া। ৪৩ মিনিটে হানিবাল মেজব্রির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ওমর রেকিক। ২০১৮ সালের পর বিশ্বকাপের প্রথমার্ধে এটি ছিল তিউনিশিয়ার প্রথম গোল।