
গোটা ম্যাচে চার চারটে গোল বাতিল। একটা পর্তুগালের আর বাকি চারটেই ক্রোয়েশিয়ার। এমন ম্যাচে বিতর্কের গন্ধ থাকেই। আর সেটাই হল শেষ মুহূর্তে। টানটান এই ম্যাচে পর্তুগাল ২-১ ব্যবধানে জিতলেও, প্রশ্ন থেকে গেল ক্রোয়েশিয়ার গোল না পাওয়া নিয়ে। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে সমতাসূচক গোল করেছিল ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু ভিএআর যাচাইয়ের পর সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।
কী হয়েছে?
ইনজুরি টাইমে ১-২ গোলে পিছিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। বাম পাশ থেকে বল বাড়ান ক্রোয়েশিয়ার উইঙ্গার ইভান পেরিসিচ। বক্সের মধ্যে বলটি এদিক-ওদিক ঘুরপাক খাওয়ার পর মারিও পাসালিচ বলটি বাড়িয়ে দেন, আর সেখান থেকে বল জালে জড়ান ডিফেন্ডার ইয়োসকো গেভার্দিওল।
গোলের পরপরই উল্লাসে মেতে ওঠেন ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা। তবে সেই উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রেফারি এসপেন এসকাস দৌড়ে গিয়ে ভিডিও রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নেন। দেখা যায়, পেরিসিচ যখন ক্রস করেন, তখন পাসালিচ অনসাইড অবস্থানেই ছিলেন। কিন্তু স্নিকো প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেফারি দেখতে পান, ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড ইগর মাতানোভিচ বাতাসে থাকা বলে সামান্য স্পর্শ করেছিলেন, যা এরপর পর্তুগালের সেন্টার-ব্যাক রেনাতো ভেইগার গা ছুঁয়ে সামনে যায়।
মাতানোভিচ যখন বলে স্পর্শ করেন, তখন অফসাইড অবস্থানে ছিলেন পাসালিচ। আর এই কারণেই এরপরের পুরো আক্রমণটি অবৈধ বলে গণ্য হয়। রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে গোলটি বাতিল করে দেন। এতে জোর প্রতিবাদ জানান ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।
এই সুযোগের পর আর কোনো সুযোগ পায়নি ক্রোয়েশিয়া। এক গোলের ব্যবধান ধরে রেখেই ম্যাচ শেষ করে পর্তুগাল। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল। ছিটকে যেতে হল, লুকা মদ্রিচ, ইভান পেরিসিচদের। পর্তুগালের পরের ম্যাচ স্পেনের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচ জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে পর্তুগাল। সামনে আরও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে সিআর সেভেনদের জন্য।