
ডুরান্ড কাপের ফাইনালে তিনি একাই জয় এনে দিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলকে। মোহনবাগানের কাছে হেরে ডুরান্ড কাপের যাত্রা শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালে সেই মোহনবাগান হারিয়ে ট্রফি জিতে অভিযান থামাল লাল-হলুদ। আর এই বিরাট জয়ের তারকা এডমুন্ড লালরিনডিকা এখন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের চোখের মণি।
ভাইচুং ভুটিয়ার রেকর্ড ছুঁলেন এডমুন্ড
১৯৯৭ সালে ফেডারেশন কাপে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে হ্যাট ট্রিক করেছিলেন ভাইচুং ভুটিয়া। প্রায় ২৯ বছর পরে ভাইচুংয়ের সেই কৃতিত্ব ছুঁলেন এডমুন্ড। বললেন, 'বাইচুংভাই একজন কিংবদন্তি। তাই তাঁর কৃতিত্বকে স্পর্শ করতে পারাটা গর্বের।' লাল-হলুদের ডুরান্ড জয়ের নায়ক এডমুন্ড লালরিনডিকাকে আরেকবার চিনে নেওয়া যাক।
গ্রামে সর্বশিক্ষা অভিযানে প্রথমবার ফুটবল
এডমুন্ডের জন্ম মিজোরামের লুংলেই গ্রামে। গ্রামে সর্বশিক্ষা অভিযানে প্রথমবার ফুটবল খেলেছিলেন ছেলেবেলা। ২০০৮ সালে জেলা ফুটবল সংস্থায় নজর কাড়েন তিনি। মিজোরামের আন্ডার ১২ দলের সুযোগ পান। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এডমুন্ডকে। ফুটবলকে ভালোবেসেই পাড়ি দেন কলকাতায়। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অ্যাকাডেমিতে ট্রেনিং শুরু হয়। বাবার স্টিলের দোকান। ছেলেবেলায় নিজেকে ফিট রাখতে প্রচুর সাইকেল চালাতেন এডমুন্ড।
গুরু হাবাসের প্রিয় পাত্র এডমুন্ড
এডমুন্ডকে আগে থেকেই চিনতেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও। বেঙ্গালুরুর বি দলের হয়ে পেশাদার কেরিয়ার শুরু তাঁর। এর পর ইন্ডিয়ান অ্যারোজ, বেঙ্গালুরু এফসি, ইস্টবেঙ্গল, ইন্টার কাশীতে খেলেছেন। সেখানে আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাসের কোচিংয়ে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল। ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েও একই গুরুকে পান। চোট থাকা পিভি বিষ্ণুর জায়গায় হাবাস খেলিয়েছিলেন এডমুন্ডকে। হ্যাটট্রিক করে গুরু হাবাসের মান রাখলেন এডমুন্ড।
অনবদ্য মনের জোরে কামব্যাক
প্রথমবার এডমুন্ড ইস্টবেঙ্গলে খেলেছিলেন ২০২০ সালে। তখন লাল-হলুদ কোচ ছিলেন অ্যালেসান্দ্রো মেনেন্দেজ। স্পেনের কোচ মেনেন্দেজেরও নজর কেড়েছিলেন মিজোরামের প্রতিভা। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ডেবিউ ম্যাচই ছিল মোহনাবাগানের বিরুদ্ধে ডার্বি। সেই ম্যাচেও গোল করেছিলেন। কিন্তু বড়সড় চোট পান। চিকিৎসকরা সাফ জানিয়েছিলেন, ফুটবল আর সম্ভবত খেলতে পারবেন না। তবে এডমুন্ড হার মানেননি। মনের জেরে ১৮ মাসের মধ্যেই মাঠে ফেরেন তিনি। এই পর্বে তাঁর বোন ছিল বড়ো অনুপ্রেরণা। চোট সারিয়ে আই লিগে ইন্টার কাশীর হয়ে দুরন্ত পারফর্ম্যান্স। ফের এডমুন্ডের প্রত্যাবর্তন ঘটে ইস্টবেঙ্গলে।
এডমুন্ডের পছন্দের প্লেয়ার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। একটি সাক্ষাত্কারে এডমুন্ড বলেছিলেন, 'গোল করতে দারুণ লাগে। তবে উইং দিয়েই খেলতে ভালবাসি। ঠিক ক্রিশ্চিয়ানোর মতো। ডিফেন্স ভেঙে এগিয়ে যেতে ভালোবাসি।'