
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে যখন গোটা বিশ্বে উত্তেজনার পারদ চড়ছে, তখন কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের মনে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তা। টেলিভিশনে আদৌ খেলা দেখা যাবে কি না, এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বহু মানুষের মনে।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র দু’মাসের কিছু বেশি সময় বাকি। আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে চলা এই মেগা আসর ১১ জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা। অথচ এখনও পর্যন্ত ভারতে এর কোনও নিশ্চিত সম্প্রচারকারী সংস্থার নাম ঘোষণা না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
সমস্যার মূল কারণ দর্শকের অভাব নয়, বরং সময়ের পার্থক্য। কাতার বিশ্বকাপের মতো সুবিধাজনক সময়ে নয়, উত্তর আমেরিকার টাইমজোনের কারণে বেশিরভাগ ম্যাচই ভারতীয় সময় অনুযায়ী গভীর রাত বা ভোরে অনুষ্ঠিত হবে। মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৩টি ম্যাচ পড়বে ভারতীয় ‘প্রাইম টাইম’-এ,যা সম্প্রচারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
কলকাতার একনিষ্ঠ আর্জেন্টিনা সমর্থক বৈভব চৌধুরী বলেন, 'এটা ভাবতেই খারাপ লাগছে যে হয়তো আমরা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সম্প্রচারই দেখতে পাব না। বিশেষ করে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, এটা তো কোনওভাবেই মিস করা যায় না।' তবে তিনি আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত কোনও না কোনও সমাধান বেরোবে।
অন্যদিকে, আইটি কর্মী বিশাল দেবনাথের দুশ্চিন্তা আরও বাস্তব। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার অফিসের মধ্যে রাত জেগে ম্যাচ দেখা তাঁর পক্ষে কঠিন। তারওপর ক্রিশ্চিয়ানো রোনান্ডোর শেষ বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তাঁকে ভাবাচ্ছে।
কলেজ পড়ুয়া পলাশ ভাওয়াল বললেন, 'এর প্রভাব পড়তে পারে তরুণ প্রজন্মের ওপরও। 'আমরা ছোটদের জন্য বিশ্বকাপ দেখার বিশেষ আয়োজন করি। কিন্তু সম্প্রচার না থাকলে তারা আন্তর্জাতিক তারকাদের খেলা দেখার সুযোগ থেকেই বঞ্চিত হবে।'
ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত মজুমদারের মতে, 'সম্প্রচার নিয়ে এই অনিশ্চয়তা থাকলে অনেকেই বাধ্য হয়ে অবৈধ স্ট্রিমিং সাইটের ওপর নির্ভর করতে পারেন। ঘুমের কথা পরে ভাবা যাবে, বিশ্বকাপ তো চার বছরে একবারই আসে!'
সব মিলিয়ে, সময়ের অসুবিধা এবং সম্প্রচারের অনিশ্চয়তার মাঝে দাঁড়িয়ে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায়। সবার একটাই আশা, শেষ মুহূর্তে হলেও যেন টেলিভিশনের পর্দায় ধরা পড়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল উৎসব।