
ফকল্যান্ডের যুদ্ধে জেতা হয়নি আর্জেন্টিনার। তবে মাঠের লড়াইয়ে বড় জয় তুলে নিয়ে ফের বিশ্বকাপের ফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর ম্যাচ শেষ করেই, আর্জেন্টিনার ফূটবলাররা ফের মনে করিয়ে দিলেন সেই যুদ্ধের কথা। 'লাস মালভিয়ান্স' লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে আনন্দ, সঙ্গে থাকল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও। সেই ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
ফকল্যান্ডের যুদ্ধ কেন হয়েছিল?
১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা এবং ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ হয়। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের কাছে আর্জেন্টিনার সামরিক বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। আসলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত। ব্রিটেন ১৮৩৩ সাল থেকে এই দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল, কিন্তু আর্জেন্টিনা বরাবরই সেগুলোকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে। এরপর আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক সরকার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আক্রমণ করে দখল করে নেয়।ব্রিটেন প্রায় ৮০০০ মাইল দূরে থাকা সত্ত্বেও, তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সরকার শক্তিশালী নৌবাহিনী ও সামরিক টাস্কফোর্স নিয়ে লড়াইয়ে নেমে পড়েন। সমুদ্র, আকাশ ও স্থলপথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর, ১৪ জুন ব্রিটিশ বাহিনী দ্বীপের রাজধানী স্ট্যানলি পুনরুদ্ধার করে এবং আর্জেন্টাইন বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
সেই থেকেই দুই দলের মধ্যে ম্যাচ হলেই উঠে আসে ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি। এবারের বিশ্বকাপে যেন সেটাই আবার প্রবল হয়ে উঠল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্টনি গর্ডন। সেই লিড স্থায়ী হয় ৮৫ মিনিট অবধি। তখনই ডান্দিকের উইং-এ সরে এসে কাজের কাজটা সেরে ফেলেন গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম মেসি। তাঁর পাস ধরে দূরপাল্লার শটে দুর্ভেদ্য মনে হওয়া পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ।
প্রথম গোলের ক্ষেত্রে অনেকটাই কৃতিত্ব এঞ্জোর। তবে দ্বিতীয় গোল মেসির মাস্টারক্লাস। সমতা ফেরানোর পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যান লিওনেল মেসি। এরপর তার ট্রেডমার্ক নিখুঁত ক্রস পৌঁছে যায় ইংল্যান্ডের বক্সের ভেতরে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে একটুও ভুল করেননি বদলি হিসেবে নামা লাউতারো মার্তিনেজ। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান তিনি। জর্ডান পিকফোর্ডের কিছুই করার ছিল না।