
রাউন্ড অফ ১৬-এর প্রথম ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম দল হিসেবে জায়গা করে নিল মরক্কো। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই বেশ সতর্ক ছিল। প্রথমার্ধে মরক্কো বলের দখল বেশি রাখলেও, কানাডা বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণ তৈরি করে। তবে দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে প্রথমার্ধটি গোলশূন্য (০-০) ভাবেই শেষ হয়।
তবে টানটান উত্তেজনার এই অর্ধে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই বেশ আগ্রাসী মনোভাব দেখা যায়, যার ফলে প্রথমার্ধেই দুই দলকে বেশ কয়েকটি হলুদ কার্ড দেখতে হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ওনাহির ম্যাজিক
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই মরক্কো তাদের খেলার গতি বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির চমৎকার পাসে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে এক দূরপাল্লার জোরালো শটে কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিমে ক্রেপেউকে পরাস্ত করে মরক্কোকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার অ্যাজেডিন ওনাহি।
পিছিয়ে পড়ে কানাডা সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে এবং একাধিক কর্নার আদায় করে। কিন্তু তাদের সব প্রচেষ্টা মরক্কোর শক্তিশালী রক্ষণভাগের সামনে এসে থমকে যায়। উল্টো ম্যাচের ৮১তম মিনিটে ব্রাহিম ডিয়াজের অ্যাসিস্ট থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে মরক্কোর জয় নিশ্চিত করেন সেই ঔনাহি।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৭ মিনিট) কানাডার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন সুফিয়ান রহিমি। ব্রাহিম ডিয়াজের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে তিনি দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই ৩-০ ব্যবধানে এক ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো।
এই হারের মাধ্যমে সহ-আয়োজক কানাডার কাতার বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নেওয়ার এবং টুর্নামেন্টে টিকে থাকার স্বপ্ন ভঙ্গ হলো। অন্যদিকে, অসাধারণ এই জয়ের মাধ্যমে মরক্কো তাদের অপরাজিত থাকার ধারা বজায় রেখে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল, যেখানে তারা ফ্রান্স অথবা প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে।