
জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে শেষ ১৬ নিশ্চিত করা সেলেসাওরা এখন নরওয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে মরিয়া। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগেই ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে মাঝমাঠের অন্যতম প্রধান ভরসা লুকাস পাকেতার চোট। তাঁর জায়গায় কি নেইমার আসবেন?
নেইমারকে নিয়ে কী আপডেট?
আনচেলত্তি স্পষ্ট করে বলেছেন যে নেইমার শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন এবং পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস তার আছে। তবে তিনি পুরো সময় খেলবেন নাকি বদলি হিসেবে নামবেন, তা এখনই প্রকাশ করেননি কোচ। আনচেলত্তি জানান, 'ম্যাচের পরিস্থিতি এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে মাঠে ব্যবহার করা হবে'।
সংবাদিক সম্মেলনে ব্রাজিলের মেডিকেল টিম ও টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করেছে যে, জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়া পাকেতা নরওয়ের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। এমনকি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতেও তার খেলা নিয়ে বড় সংশয় তৈরি হয়েছে। মাঝমাঠের এই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে হারানো দলের জন্য বড় ক্ষতি হলেও, কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলে যে কোনো পরিস্থিতির বিকল্প তৈরি রয়েছে বলে দাবি।
পাকেতার জায়গায় কে?
পাকেতার অনুপস্থিতিতে রদ্রিগো বা ব্রুনো গিমারায়েসকে সঙ্গে নিয়ে মাঝমাঠের সমন্বয় নতুন করে সাজাতে হচ্ছে ব্রাজিলকে। আর্লিং হাল্যান্ডকে রুখতে বিশেষ পরিকল্পনা ব্রাজিলের। ফরোয়ার্ড মাতিয়াস কুনিয়া বলেন, 'হাল্যান্ড একজন অসাধারণ খেলোয়াড় এবং বিশ্বমঞ্চে সে বারবার তা প্রমাণ করেছে। প্রিমিয়ার লিগে তাঁর বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের ডিফেন্ডারদের কাজে আসবে।' মারকুইনহোস ও গাব্রিয়েলের রক্ষণভাগ হাল্যান্ড ও মার্টিন ওদেগোরদের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল।
এন্ড্রিকের দলে জায়গা ও দলের একতা
সংবাদিক সম্মেলনে আলাদা করে নজর কেড়েছেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ সেনসেশন এন্ড্রিক। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মূল একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও বেঞ্চ থেকে এসে অবদান রাখছেন তিনি। নিজের ভূমিকা নিয়ে এন্ড্রিক বলেন, 'আমি শান্ত আছি এবং কোচ আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তিনি আমার ব্যক্তিগত ভালোর চেয়ে দলের ভালোর জন্য যা প্রয়োজন, সেটাই করবেন।' এন্ড্রিকের এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে দলের অভ্যন্তরে একতা এবং মানসিক শক্তি কতটা সুদৃঢ়।
দুই দলের পরিসংখ্যান
ঐতিহাসিকভাবে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। অতীতের চারবারের দেখায় ব্রাজিল কখনোই নরওয়েকে হারাতে পারেনি, যার মধ্যে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেই বিখ্যাত ২-১ ব্যবধানের হারও রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সেলেসাও প্রতিনিধিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অতীত ইতিহাস নিয়ে তারা ভাবছেন না। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, নেইমার ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির বর্তমান আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণব্যূহ ভাঙতে সক্ষম।