
মাত্র ৫ মিনিটের ঝড়। আর তাতেই উড়ে গেল পানামা। ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে পা রেখেছে ইংল্যান্ড। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ মিনিটের ঝড়ে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের গোলে জয় নিশ্চিত করে থমাস টুখেলের শিষ্যরা।
গ্রুপ সেরা হওয়ার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে প্রথমার্ধে পানামা দারুণ ডিফেন্ড করে। তাদের জমাট রক্ষণ ম্যাচের শুরু থেকেই ফেভারিট ইংল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই টমাস রদ্রিগেসের একটি জোরালো শট চমৎকার দক্ষতায় রুখে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। প্রথমার্ধে থ্রি লায়ন্সরা বল দখলে অনেক এগিয়ে থাকলেও পানামার সুসংগঠিত ডিফেন্স ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয় বুকায়ো সাকা, মার্কাস রাশফোর্ড ও জুড বেলিংহামরা বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও প্রথমার্ধের খেলা ০-০ গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়।
ওই সময় অন্য ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে থাকায় সাময়িকভাবে ইংল্যান্ড টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমে গিয়েছিল, যা তাদের নকআউটে কঠিন সমীকরণের মুখে ফেলার শঙ্কা তৈরি করে.বেলিংহাম-কেইন ম্যাজিকে দ্বিতীয়ার্ধে জয় বিরতির পর কৌশল বদলে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের ৬২তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন জুড বেলিংহাম. বুকায়ো সাকার নিখুঁত কর্নার থেকে বল পেয়ে দারুণ এক ভলিতে পানামার জালে বল পাঠান রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। এই গোলের স্বস্তি কাটিয়ে ওঠার আগেই ৬৭ মিনিটে আবারও আঘাত হানে ইংল্যান্ড। এবার গোলদাতার ভূমিকায় অধিনায়ক হ্যারি কেন। বেলিংহামের চমৎকার এক ক্রস থেকে হেডের সাহায্যে ব্যবধান ২-০ করেন কেন। এই গোলের মাধ্যমে কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ (১১টি) গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েন হ্যারি কেন।
পরবর্তী রাউন্ডের সমীকরণ এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'এল'-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড. অন্যদিকে, কোনো পয়েন্ট ও গোল না পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো পানামা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ইংল্যান্ড এখন রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে সেনেগাল অথবা ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।