
প্রবল ঝড় বৃষ্টির জেরে নির্ধারিত সময়ের থেকে প্রায় ১ ঘন্টা পর শুরু হয় ম্যাচ। শুরু হতেই, আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচ। খেলা শেষ হয় ৩-২ গোলে। এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুতেই সিজগ এসে গিয়েছিল মেক্সিকোর সামনে। ইংল্যান্ড গোলকিপার জর্ডন পিকফোর্ড ঝাঁপিয়ে বাঁচান সেই হেড। এরপরেই ৯৯ সেকেন্ডের মধ্যে পরপর ২ গোল ইংল্যান্ডের। দু'টোই আসে জুড বেলিংহ্যামের পা থেকে। দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে জাল কাঁপান জুড বেলিংহাম। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগ ছিল না বল ঠেকানোর। ম্যাচজুড়ে পরিকল্পিত ও ধৈর্যশীল ফুটবল খেলার পুরস্কার হিসেবে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল থ্রি লায়ন্স।
নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেন জুড বেলিংহাম। দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবলে মেক্সিকোর রক্ষণভাগকে সম্পূর্ণ ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে থ্রি লায়ন্স। ৪৩ মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে ফেলে মেক্সিকো। ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া একটি দুর্দান্ত সেট-পিসে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ বল পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়। বক্সের ভেতরে আলগা হয়ে আসা বল পেয়ে জুলিয়ান কুইনিওনেস জোরালো শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন।
৫৮ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। গুরুতর ফাউল করার কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে জ্যারেল কোয়ানসাকে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি। এরপর ব্যবধান আরও বাড়ায় ইংল্যান্ড। অনসাইড থাকা অ্যান্থনি গর্ডন বিদ্যুৎগতিতে ছুটে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন। ঠিক তখনই গোলরক্ষক বেপরোয়াভাবে বেরিয়ে এসে গর্ডনকে ফেলে দেন। কোনো দ্বিধা না করে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দলকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
ম্যাচের নাটক এখানেই শেষ হয়নি। ব্যবধান কমান হিমেনেস। ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় মেক্সিকো, আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি রাউল হিমেনেস। স্পটকিক থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-২ করেন তিনি। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করায় ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন হলুদ কার্ডও দেখেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি। ঘরের মাঠে ১০ জনের ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় মেক্সিকোকে।