
মেসির পেনাল্টি মিস ঘিরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ। বাংলাদেশে প্রাণ গেল এক ফুটবল সমর্থকের। ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও মিশরের লড়াই ঘিরে যেমন মাঠে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তেমনই মাঠের বাইরে ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। তবে সেই ফুটবল উন্মাদনা যে ঠিক কতটা অন্ধ ও যুক্তিহীন হতে পারে, তার মর্মান্তিক পরিণতি দেখা গেল বাংলাদেশের কুমিল্লায়। স্রেফ একটা ফুটবল ম্যাচের তর্ককে কেন্দ্র করে প্রাণ গেল বছর পঁয়ত্রিশের শরিফুল ইসলামের।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত তখন ১১টা। ধানপুর এলাকার একটি চায়ের দোকানে ভিড় জমিয়ে খেলা দেখছিলেন স্থানীয়রা। পেশায় অটোচালক শরিফুল মনেপ্রাণে ব্রাজিলের অন্ধ সমর্থক। তাই আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের ম্যাচে চির প্রতিদ্বন্দ্বী টিমের হার দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। গলা ফাটাচ্ছিলেন মিশরের হয়ে। মেসি পেনাল্টি মিস করতেই শরিফুল এক আর্জেন্টিনা সমর্থককে টিপ্পনী কেটে বলে বসেন, 'তোর বাপ তো গোল করতে পারল না!' ব্যাস, মুহূর্তের মধ্যে জমিয়ে খেলা দেখার আসর দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা পর্যন্ত গড়ায়। শুরু হয় হাতাহাতি।
পুলিশের দাবি, সংঘর্ষের সময় ৩৫ বছর বয়সী শরিফুলের মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় দুই স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
গোটা ঘটনার সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ম্যাচের রেজাল্ট। যাঁর পেনাল্টি মিস নিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড, সেই মেসিই ওই ম্যাচে আটলান্টা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ গোলে জেতানোর মূল কারিগর। তবে মিশরকে হারালেও ম্যাচটি ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে আর্জেন্টিনা। হারের পর মিশর শিবির রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলে।
ভারতের মতো বাংলাদেশেও ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনা নতুন নয়। যদিও দেশটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে না, তবুও বিভিন্ন দলের সমর্থকদের আবেগ প্রায়শই চরমে পৌঁছয়। অতীতেও ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, মারধর, ছুরিকাঘাত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং সড়ক দুর্ঘটনার মতো ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির খবর সামনে এসেছে। কুমিল্লার এই ঘটনাও সেই তালিকায় নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ফুটবল নিয়ে এই হাস্যকর রেষারেষি এক লহমায় একটি গরিব অটোচালকের পরিবারকে একেবারে পথে বসিয়ে দিয়েছে।