
ফিফা বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর নতুন পথে হাঁটতে চলেছে পর্তুগাল। শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ার পর প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ দায়িত্ব ছাড়েন। আর তাঁর বিদায়ের কয়েক দিনের মধ্যেই পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন নতুন কোচ হিসেবে অভিজ্ঞ হোর্হে জেসুসকে নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে খবর।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম এ বোলা-র দাবি, ৭১ বছর বয়সি হোর্হে জেসুসই এখন ফেডারেশনের প্রথম পছন্দ। এই বিষয়ে ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঙ্কা ও জেসুসের মধ্যে বৈঠকেরও কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, এই প্রথম কোনও জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে চলেছেন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই কোচ।
এই নিয়োগ হলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে আবারও একসঙ্গে কাজ করবেন জেসুস। গত মৌসুমে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে দু'জন একসঙ্গে ছিলেন। জেসুসের কোচিংয়ে আল নাসর সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জেতে এবং সেই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রোনাল্ডোর।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় পর্তুগাল। ম্যাচের পরই মার্তিনেজ জানান, তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, 'এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। এখন নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। ফেডারেশনের সভাপতি জাতীয় দলের জন্য নতুন কোচ বেছে নেবেন, সেটাই স্বাভাবিক। আমাকে যে সমর্থন দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।'
মার্তিনেজের কোচিংয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার বিষয় ছিল রোনাল্ডোর প্রতি তাঁর অটল আস্থা। ৪১ বছর বয়সি এই তারকা প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই প্রথম একাদশে খেলেছেন এবং বেশিরভাগ সময় পুরো ম্যাচ মাঠে থেকেছেন। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, পর্তুগাল কি অতিরিক্তভাবে রোনাল্ডোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে?
অন্যদিকে, হোর্হে জেসুসও বরাবরই রোনাল্ডোর বড় সমর্থক। আল নাসরে কাজ করার সময় তিনি একাধিকবার প্রকাশ্যে রোনাল্ডোর প্রশংসা করেছেন। তাঁর অধীনে রোনাল্ডো আরও একটি সফল মৌসুম কাটান এবং ক্লাবও লিগ শিরোপা জেতে।
জেসুস যদি দায়িত্ব নেন, তাহলে তাঁর হাতে থাকবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী একটি দল। রাফায়েল লেয়াও, ব্রুনো ফার্নান্দেস, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনহা ও জোয়াও নেভেসের মতো তারকা ফুটবলারদের নিয়ে নতুন দল গড়ার সুযোগ পাবেন তিনি। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাবে—পর্তুগালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রোনাল্ডোকে কেন্দ্র করেই কি দল গড়া হবে, নাকি শুরু হবে নতুন যুগ?
তিন দশকেরও বেশি কোচিং অভিজ্ঞতা রয়েছে হোর্হে জেসুসের। আল নাসরের পাশাপাশি তিনি বেনফিকা, স্পোর্টিং সিপি এবং তুরস্কের ফেনারবাহচের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবেরও কোচ ছিলেন। কোচিংয়ে আসার আগে ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পেশাদার ফুটবলার হিসেবেও খেলেছেন তিনি।