
Asmita Dey Commonwealth Games: ইতিহাস গড়লেন বাঙালি অস্মিতা। কমনওয়েলথের মঞ্চে প্রথম ভারতীয় হিসেবে জুডোয় সোনার পদক জিতে নজির গড়লেন ২৩ বছরের অ্যাথলিট। শুক্রবার ফাইনালে কানাডার হেইদি কুয়াচকে হারিয়ে দেশের জুডো ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন অস্মিতা দে। অস্মিতার সোনার কিছুক্ষণের মধ্যেই হর্ষ সিংহও সোনা জেতেন। এই নিয়ে কমনওয়েলথে ভারতের মোট সোনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচে। জুডোয় ভারতের এর আগে সোনা ছিল না। এতদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটালেন অস্মিতা। কমনওয়েলথ প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ভারতীয় জুডোকারা এর আগে একাধিক রুপো ও ব্রোঞ্জ জিতলেও সোনা অধরাই ছিল। সেই স্বপ্নপূরণ করলেন দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ার এই বাঙালি ক্রীড়াবিদ। বাবা সাইকেল মেকানিক। নিম্নবিত্ত পরিবার। রীতিমতো স্ট্রাগেল করে এই জায়গায় পৌঁছেছেন। সেই কাহিনীও নিচে দেওয়া হল।
শুক্রবার জুডোর ফাইনালে দুরন্ত লড়াই করেন। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কানাডার প্রতিদ্বন্দ্বী হেইদি কুয়াচকে হারান। শুরু থেকেই বেশ আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স ছিল তাঁর। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। এই জয়ের মাধ্যমে ভারতের জুডো ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা হল।
ফাইনালে ওঠার পথটাও সহজ ছিল না। কোয়ার্টার ফাইনালে স্কটল্যান্ডের এভা ইউইংকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেন অস্মিতা। সেমিফাইনালে ভারতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সুমের শ-কে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠেন। শেষ ম্যাচেও সেই ছন্দ ধরে রেখে সোনা নিশ্চিত করেন বাঙালি কন্যা।
অস্মিতার সোনা জয়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারতের আরও একটি স্বর্ণপদক আসে। জুডোর আরেক ফাইনালে জয় তুলে নেন হর্ষ সিংহ। ফলে একই দিনে পরপর দুই ভারতীয় জুডোকার সোনা জয়ে উচ্ছ্বসিত গোটা দেশ। কমনওয়েলথ প্রতিযোগিতায় ভারতের মোট সোনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচে।
ভারতের জুডো ইতিহাসে এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন পর্যন্ত কমনওয়েলথ আসরে ভারতীয় জুডোকারা পাঁচটি রুপো এবং ছ'টি ব্রোঞ্জ জিতলেও সোনা অধরাই ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন অস্মিতা দে। এর আগে ১৯৯০ সালে নরেন্দ্র সিংহ প্রথম ভারতীয় হিসেবে জুডোয় কমনওয়েলথ পদক জিতেছিলেন। পরে সুশীল লিকমাবাম ২০১৪ এবং ২০২২ সালে রুপো জিতে নজর কেড়েছিলেন। তবে সোনার স্বপ্ন পূরণ হল এবারই।
অস্মিতার স্ট্রাগেল শুনলে কাঁদবেন
অস্মিতার এই সাফল্যের নেপথ্যের গল্পও রীতিমতো অনুপ্রেরণাদায়ক। দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ার বাসিন্দা তিনি। বাবা সাইকেলের মেকানিক। ছোটবেলায় যথেষ্ট আর্থিক অনটনের মধ্যে বড় হয়েছেন। প্রথমে ৮০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিতেন। পরে ২০১৫ সালে ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলে ভর্তি হন। কোচের পরামর্শে জুডো শুরু করেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন।
খেলো ইন্ডিয়া ও জাতীয় স্কুল গেমসে সাফল্য। তারপর ভোপালের সাই আঞ্চলিক কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। বর্তমানে সেখানেই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে এশিয়ান ওপেন, জুনিয়র এশিয়া কাপ এবং কমনওয়েলথ জুডো প্রতিযোগিতাতেও পদক জিতেছেন।
শুধু জুডো নয়, বক্সিংয়েও ভারতের দাপট অব্যাহত। মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগে ওয়েলসের রোসি একলেসকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন অরুন্ধতী চৌধরি। পাশাপাশি ৫৭ কেজিতে জৈস্মিন লম্বোরিয়া, ৫৪ কেজিতে প্রীতি পওয়ার, ৮০ কেজিতে অন্তিম পঙ্ঘাল এবং ৫৫ কেজিতে জাদুমণি সিংহও ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছেন। ফলে এই পাঁচ বক্সারের পদকও নিশ্চিত।
ভারতের ক্রীড়াবিদদের এই ধারাবাহিক সাফল্যে কমনওয়েলথ মঞ্চে দেশের পদকসংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে অস্মিতা দে-র এই ঐতিহাসিক সোনা ভারতীয় জুডোর ভবিষ্যতের জন্য নতুন দিশা দেখাল বলেই মনে করছেন ক্রীড়া মহলের একাংশ।