
আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। ইরান সেই বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করলেও অংশ নেবে না ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলা যুদ্ধের আবহে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে ইরান। বিশ্বকাপে অংশ নিলে ইরানের ফুটবলারদের 'জীবন ও নিরাপত্তা' ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অর্থাৎ প্রায় নিজের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মাত্র দুদিন আগে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চললেও ইরানি খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে।
আর এখন তাঁর দেশেই ইরানিয়ান ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, 'ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত। তবে আমি মনে করি, নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার খাতিরে তাদের এখানে আসাটা সমীচীন হবে না।'
ইনফান্তিনো চলতি সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর মঙ্গলবার এক বার্তায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রধান জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানি দলকে অবশ্যই আমেরিকায় হতে চলা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য স্বাগত জানানো হবে।
গত ডিসেম্বরে ইনফান্তিনো 'ফিফা শান্তি পুরস্কার' চালু করেন। প্রথমবারেই এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় ট্রাম্পকে। তবে ফিফা প্রধান এবারই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করলেন।
এশিয়ান কাপে অংশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যাওয়া ইরানের মহিলা ফুটবলারদের বিষয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় দেশে ফিরলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে এমন আশঙ্কায় থাকা মহিলা ফুটবলারদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার সেই আহ্বানের পর অস্ট্রেলিয়া সরকার ইতিমধ্যে পাঁচজন ফুটবলারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে।