
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল এখন লাস্ট ল্যাপে। বাকি কেবল তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচ এবং মেগা ফাইনাল। ম্যাচ শেষে হবে পুরস্কার বিতরণের পালা। এবারের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দল মালামাল হতে চলেছে। একইসঙ্গে মিলবে আরও নানারকমের পুরস্কার।
বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলার ধার্য করেছে ফিফা। ভারতীয় মুদ্রার প্রায় ৮ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। যা আগের বিশ্বকাপের থেকে অনেকটা বেশি। তবে সম্পূর্ণ অর্থ বিজয়ী দল পাবে না। বিভিন্ন খাতে ফান্ড দেয় ফিফা। তারমধ্যে জাতীয় ফেডারেশনকে অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী দলকে গ্রান্ট দেওয়া হয়। এছাড়াও যেসব ক্লাব আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য প্লেয়ারদের ছেড়ে দেয়, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। ফিফা সরাসরি প্লেয়ারদের টাকা দেয় না।
এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে করা হয় ৪৮। সেই কারণেই পুরস্কার মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের প্রাইজ পুল ছিল ৪৪০ মিলিয়ন ডলার।
প্রাইজ মানি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। তারমধ্যে পুরস্কার মূল্যের জন্য ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার ধার্য করা হয়েছে। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনকারী প্রত্যেক দল ১০ মিলিয়ন ডলার পায়। এছাড়াও প্রস্তুতির জন্য আলাদা করে ২.৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী দল ১২.৫ মিলিয়ন ডলার করে পাচ্ছে। ম্যাচ জিততে না পারলেও এই অঙ্ক পাচ্ছে তারা। এছাড়াও ট্রাভেল, টিকিটের দাম সামলানোর জন্য ফেডারেশনকে আলাদা অর্থ বরাদ্দ করেছে ফিফা।
বিশ্বকাপের জন্য প্লেয়ারদের কোনও আলাদা বেতন নেই। বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলারদের সরাসরি টাকা দেয় না ফিফা। ফেডারেশনকে অর্থ ধরে দিয়ে দেওয়া হয়। সেটা কীভাবে বা কোন খাতে ব্যবহৃত হবে, ঠিক করবে নির্দিষ্ট ফেডারেশন। এটা প্রত্যেক দেশের ফেডারেশনের ওপর নির্ভর করে। অনেকে ফুটবলারদের ম্যাচ প্রতি টাকা দেয়। আবার অনেকেই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।
ক্লাবগুলোকেও টাকা দেয় ফিফা। সেই খাতে এবার ৩৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড ধার্য করেছে ফিফা। যা অন্যান্য বারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। প্লেয়ার প্রতি প্রতিদিন অন্তত ৫০০০ ডলার পায় ক্লাবগুলো। যে ক্লাবের সবচেয়ে বেশি প্লেয়ার বিশ্বকাপে খেলবে, তাঁরাই সবচেয়ে লাভবান হবে। এই তালিকায় একনম্বরে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। মোট ১৯ জন প্লেয়ার প্রতিনিধিত্ব করছে এবারের বিশ্বকাপে।
বিশ্বকাপের ট্রফি বা মেডেলের পাশাপাশি যুক্ত হতে চলেছে রিং। সম্প্রতি FIFA জানিয়েছে, বিশ্বকাপজয়ী দল ট্রফি ও স্বর্ণপদকের পাশাপাশি পাবে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ বা চ্যাম্পিয়ন আংটি। ২০২৬ বিশ্বকাপের এই বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মোট ২,০২৬টি বিশেষ আংটি তৈরি করা হবে। এর মধ্যে মাত্র ৩০টি রিং বরাদ্দ থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের জন্য। বাকি ১,৯৯৬টি আংটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিক্রি করা হবে।
কোন দল কত প্রাইজমানি পাবে?
> চ্যাম্পিয়ন: ৫০ মিলিয়ন ডলার (৪৭৮ কোটি টাকা)
> রানার্সআপ: ৩৩ মিলিয়ন ডলার (৩১৫ কোটি টাকা)
> তৃতীয় স্থান: ২৯ মিলিয়ন ডলার
> চতুর্থ স্থান: ২৭ মিলিয়ন ডলার
> কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়: ১৯ মিলিয়ন ডলার
> রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায়: ১৫ মিলিয়ন ডলার
> রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায়: ১১ মিলিয়ন ডলার
> গ্রুপ পর্বেই বিদায়: ৯ মিলিয়ন ডলার।
প্রস্তুতি ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত ১.৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ দলই কমপক্ষে ১০.৫ মিলিয়ন ডলার পাচ্ছে।
এছাড়াও সেরা খেলায়োড় পাবেন গোল্ডেন বল, সেরা গোলরক্ষক গোল্ডেন গ্লাভস এবং গোল্ডেন বুট পাবেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।