
রাউন্ড অফ ৩২-এ ক্রোয়েশিয়া বনাম পর্তুগালের ম্যাচ হয়ে উঠল চূড়ান্ত নাটকীয়। প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ১-০ করে লিড নেয় ক্রোয়েশিয়া। এরপর পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ঠিক যখন মনে হতে শুরু করে, এই ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, তখনই রামোসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে জেনেও সেলিব্রেশন করতে পারছিলেন না পর্তুগালের খেলোয়াড়রা। কারণ, দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিট নির্ধারিত অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাঁশি বাজাচ্ছিলেন না রেফারি। খেলা চলতে থাকে। আর তখনই ঘটে অঘটন। পেরিসিচের পাস থেকে আসে গোল। ঠিক যখন ক্রোয়েশিয়ানরা গ্যালারি থেকে চিৎকার শুরু করেন, 'ম্যাচ ইজ অন', তখন VAR-এর সিদ্ধান্তে অফসাইড তকমা দিয়ে বাতিল হয় সেই গোল। অবশেষে ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময়ের সঙ্গে আরও সময় যোগ করে মোট ১০৮ মিনিট পর রেফারি ফাইনাল হুইসল ব্লো করেন। নাটকীয় ম্যাচে জিতে শেষ ১৬-তে পৌঁছন রোনাল্ডোরা। তবে সেভাবে দাগ কাটতে পারেনি CR7। নিজের শেষ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন লুকা মদ্রিচও।
নজর কাড়তে ব্যর্থ দুই তারকা
২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে খেলেছেন দু’জন। একসঙ্গে খেলেছেন ২২২ ম্যাচ। প্রাক্তন সতীর্থদের লড়াই দেখতে তাই কানায় কানায় ভর্তি ছিল স্টেডিয়াম। তবে মুখোমুখি বোঝাপড়ার এই ম্যাচে রোনাল্ডো কিংবা মদ্রিচ, কেউই সেভাবে নজর কাড়তে পারলেন না।
প্রথমার্ধ
আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করেছিল পর্তুগাল। ৪ মিনিটের মাথাতেই ভাল সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল তারা। রাফায়েল লিয়াওর তৈরি করা আক্রমণ কাজে লাগিয়ে গোল লক্ষ্য করে দু’টি শট নেন ব্রুনো ফের্নান্দেস। আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি কেউই।
দ্বিতীয়ার্ধ
আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে ইভান পেসিরিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। চাপ বাড়তে শুরু করে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগে। ৬০ মিনিটের মাথায় রোনাল্ডো ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষককে প্রায় একাই কাটিয়েগোল করেন। কিন্তু অফসাইডর জন্য তা বাতিল হয়ে যায়। তবে পর্তুগালকে আটকে রাখা যায়নি বেশিক্ষণ। ৬৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডার বক্সের মধ্যে ফাউল করেন রেনাতো ভেগাকে। পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। গোল করতে ভুল করেননি CR7।
৮১ মিনিটে রোনাল্ডোকে তুলে নিয়ে রুবেন নেভেসকে নামান পর্তুগিজ কোচ। ৮৫ মিনিটে সুচিচের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল না হলে আবার এগিয়ে যেতে পারত ক্রোয়েশিয়া।
নাটকীয় মুহূর্ত
১-১ স্কোরলাইন ছিল ৯০ মিনিট পর্যন্ত। ফলত সকলেই প্রস্তুত হচ্ছিলেন অতিরিক্ত সময়ের জন্য। কিন্তু অ্যাডেড টাইমের ৪ মিনিটের মাথায় পর্তুগালকে জয়সূচক গোল এনে দেন গন্সালো রামোস। এই গোলের পর সকলেই প্রায় ধরে নিয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার আর কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু নাটক তখনও বাকি ছিল। অতিরিক্ত ১০ মিনিট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও খেলা চলতে থাকে। তারই ফাঁকে প্রতিপক্ষের গোলে বল পাঠিয়ে স্কোরলাইন ২-২ করে ক্রোয়েশিয়া। উল্লাসে মেতে ওঠেন মদ্রিচেরা। রোনাল্ডোদের চোখে-মুখে তখন বিরক্তি, হতাশা।
এরপরই দীর্ঘক্ষণ সেই গোল নিয়ে চলে কাটাছেঁড়া। অফসাইডের জন্য এই গোলও বাতিল হয়ে যায়। রেনাতো ভেগার মাথায় লাগার পর বল পান পেরিসিচি। তিনি সে সময় অফসাইডেই ছিলেন। নিজে গোল করতে না পারলেও এক সতীর্থকে বল বাড়িয়ে দেন। যিনি গোলটি করেন। তা সত্ত্বেও গোল না দিয়ে দেওয়া হল অফসাইড। VAR-এর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয় ক্রোয়েশিয়ার ফ্যানেদের মধ্যে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও হুইসল ব্লো না করার জন্য বিরক্ত হন পোর্তুগিজ অনুগামীরা। অবশেষে ১০৮ মিনিট খেলা চলার পর জয়ের হাসি হাসলেন রোনাল্ডোরাই। সুইৎজারল্যান্ড না আলজেরিয়া, শেষ ১৬-তে তাদের সামনে এবার সেটাই দেখার।