
সবেমাত্র গড়িয়েছে বিশ্বকাপের বল। খেলা হয়েছে একটি ম্যাচ। এর মধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে চর্চার অন্যতম বিষয়বস্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে রেফারির হেডসেট। মেক্সিকো সিটিতে হোস্ট কান্ট্রি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে ব্রাজিলের রেফারি উইলটন সাম্পাইও যে হেডসেট পড়েছিলেন, তা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার টক অফ দ্য টাউন। কী বিশেষত্ব রয়েছে এই হেডসেটটির?
২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের কার্টেন রেজারের ঝলক দেখা গিয়েছে ছাব্বিশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। আইকনিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে পারফর্ম করলেন শাকিরা এবং বার্না বয়। কিক অফের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের নজরে পড়ল রেফারি উইলটন সাম্পাইওর হেডসেটের উপর। সকলেরই প্রশ্ন, 'রেফারির কানে ওটা কী?'
ওফার দ্য ইয়ার ওই হেডসেটটি একটি মাইক্রোফোনের সঙ্গে যুক্ত। এর ফলে একটি ফিউচারিস্টিক অ্যাপিয়ারেন্স আসছিল তাঁর কাছে। অর্থাৎ ভবিষ্যৎমুখী রূপ দেখতে পাচ্ছিলেন তিনি। যা বিশ্বকাপের দর্শকরা আগে কখনও দেখিনি।
FIFA World Cup 2026-এর প্রথম গোলটি এল মেক্সিকোর ফরওয়ার্ড জুনিল কুইনসের পা থেকে, ম্যাচের ৯ মিনিটে। ফুটবলপ্রেমীদের চোখে প্রথম ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই ধরা পড়ে FIFA-র আনা একের পর এক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন। টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচেই এই ধরনের উন্নততর যন্ত্র দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও কৌতুহলী জনতা।
রেফারির কানে ওই যন্ত্রটি আসলে কী?
ওই হেডসেটটি কোনও ক্যামেরা কিংবা ভার্চুয়াল রিয়ালিটি দেখার যন্ত্র নয়। ওটা ওয়্যারলেস রেফারি কমিউনিকেশন সিস্টেম। যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে 'RefCam' কিংবা 'EarCam'। সহকারী রেফারিদের সঙ্গে টানা যোগাযোগ বজায় রাখতেই মূলত মাঠে থাকা রেফারিরা এই যন্ত্র কানে পরবেন। এই ডিভাইসের মাধ্যমেই তাঁর যোগাযোগ থাকবে চতুর্থ অ্যাধিকারিক এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদের (VAR) সঙ্গে।
ম্যাচের সময়ে রিয়াল টাইম কমিউনিকেশনসের সুযোগ পাবেন রেফারিরা। ফাউল, অফসাইড কিংবা কোনও রকম গড়বর হলেই তা নিয়ে সরাসরি যোগাযোগ থাকবে রেফারিদের সঙ্গে।
FIFA আর কী কী অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করছে এবারের বিশ্বকাপে?
ফিউচারিস্টিক রেফারি হেডসেট কেবল ট্রেলার। এবারের বিশ্বকাপে দেখা যাবে এমন আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
স্মার্ট ম্যাচ বল: এবারের ম্যাচ বলগুলিতে থাকছে ইন্টিগ্রেডেট মোশন সেন্সর চিপ। যা স্পর্শ রেকর্ড করবে, পাস রেকর্ড করবে প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার। যা আধিকারিকদের রিয়াল টাইম ডেটা দেবে।
সেমি অটোমেটেড অফসাইড টেকনোলজি: টুর্নামেন্টের আগে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ডিজিটালি স্ক্যান করা হয়েছে। হক-আই সিস্টেমের মাধ্য়মে 3D প্রতিচ্ছ্ববি পাওয়া যাবে। 3D বডি মডেলের মাধ্যমে এক বা দুই মিলিমিটার কিংবা আরও দ্রুততম অফসাইড প্রতিচ্ছ্ববি ধরা পড়বে।
রেফারি চেস্ট ক্যামেরা: হেডসেট ভিডিও রেকর্ড না করলেও রেফারিদের পরানো হচ্ছে বুকের ক্যামেরা। যা দর্শকদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে খেলা রেকর্ড করছে। প্লেয়ারদের প্রত্যেকটি অ্যাকশন সরাসরি ক্যামেরাবন্দি হচ্ছে মাঠের প্রতিটা প্রান্ত থেকে।
স্মার্ট বল ট্র্যাকিং, বডি স্ক্যানের মতো এই প্রযুক্তিগুলি VAR-কে আরও দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।