
রাজ্যসভা সাংসদ এবং ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। ভাজ্জি তাঁর নিরাপত্তা পুনর্বহালের জন্য একটি আবেদন দাখিল করেছেন। হরভজন সিং প্রশ্ন তুলেছেন, কোন যুক্তিতে তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে?
তিনি সেই ঘটনার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যেখানে অভিযোগ অনুযায়ী তাঁর বাড়ির বাইরে 'বিশ্বাসঘাতক' শব্দটি লেখা হয়েছিল এবং একদল উন্মত্ত জনতা তাঁকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল। মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্ট পঞ্জাব সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার উভয়কেই জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছে। আদালত এও নির্দেশ দিয়েছে যে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত হরভজন সিংও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
শুনানির সময়, আদালত পঞ্জাব সরকারকে জানাতে বলেছে, ঠিক কী কারণে হরভজনের নিরাপত্তা সরানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাড়ির বাইরে 'বিশ্বাসঘাতক' ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চেয়েছে আদালত। পাশাপাশি তারা রাজ্য সরকারকে একটি রিপোর্ট দিতে বলেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটারের কোনওরকম ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কতটা সেটা জানাতে হবে।
উল্লেখ্য যে, পঞ্জাব সরকার শনিবার হরভজন সিংয়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপরে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে সিআরপিএফ দিয়ে সুরক্ষা দেয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১২ই মে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সরকারকে বিস্তারিতভাবে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে হবে।
হরভজন সিংয়ের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ২০২২ সালে। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি আম আদমি পার্টিতে যোগ দেন। ২০২২ সালের মার্চ মাসে, আপ তাঁকে পঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করে। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালের ১৮ই জুলাই রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নেন। আপ-র সঙ্গে তাঁর মেয়াদ ছিল চার বছর। ২৪শে এপ্রিল, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান যখন জানতে পারেন যে কিছু সাংসদ দল ছাড়ছেন, তখন তিনিই প্রথম হরভজন সিংকে ফোন করেন। তবে, সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও হরভজন সিং মুখ্যমন্ত্রীর ফোন ধরেননি। হরভজন সিং বর্তমানে আইপিএল-এর জন্য ধারাভাষ্য দিচ্ছেন এবং মুম্বইয়ে রয়েছেন।