
রক্তচাপ বাড়িয়ে জয় পেল ইস্টবেঙ্গল। চেন্নাইয়েন এফসি-র বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও, গোল খেয়ে যাওয়ার পর, হতাশা গ্রাস করছিল ইস্টবেঙ্গল শিবিরকে। আর সেই সময়ই ত্রাতা হিসেবে নিজের কাজটা করে গেলেন বিপিন সিং। ম্যাচের ফল ৩-১। এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় কথা হল, তিন গোলস্কোরারই ভারতীয়। যা দেশের ফুটবলের জন্য় দারুণ খবর হতে পারে।
ইস্টবেঙ্গল সাত মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল। এলসিনোর পায়ে বল থাকলেও, তিনি পড়ে যান। সেই সুযোগেই তাঁর থেকে বল কেড়ে নেন সল ক্রেসপো। ফাঁকা ডিফেন্সের সুযোগ নিয়ে গোল করে যান এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। কিপার নাওয়াজের নাগাল এড়িয়ে তাঁর বুলেট গতির শট জালে আশ্রয় নেয়। চেন্নাইয়েন ফুটবলাররা ভেবেছিলেন, রেফারি হরিশ কুন্ডু হয়ত ফাউল দেবেন বা খেলা থামানোর নির্দেশ দেবেন। তবে তা হয়নি।
এগিয়ে যাওয়ার পর, ডিফেন্সিভ খোলসে চলে যায় ইস্টবেঙ্গল। মাঝেমধ্যে সুযোগ পেলেও, সেখান থেকে কাজের কাজ করতে পারেননি ফুটবলাররা। ফলে ব্যবধান বাড়েনি। সুযোগ কিছু চেন্নাইয়েনও পেয়েছিল। তবে সমতা ফেরাতে ২৮ মিনিট অবধি অপেক্ষা করতে হয় চেন্নাইয়েনকে। গোল করেন ইরফান। রেনথলেইয়ের বাড়ানো দারুণ থ্রু বল ধরে এগিয়ে আসা প্রভসুকান গিলের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়ান ভারতীয় স্ট্রাইকার।
এরপরেই কিছুটা নড়েচড়ে বসে লাল-হলুদ। বিষ্ণু সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। গোলকিপার নাওয়াজকে কাটিয়ে নিয়েও গোলে শট করতে পারেননি। একের পর এক আক্রমণ তুলে আনে তারা। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ ব্যবধানেই। দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা পাচ্ছিল কোনও দলই। এর মধ্যেই ইয়ুসুফ এজ্জেজারির শট কোনওমতে বাঁচায় চেন্নাইয়েন ডিফেন্স। ৮২ মিনিটে জয়সূচক গোল তুলে নেন বিপিন। ডানদিক থেকে বিষ্ণুর তলা ক্রস বাঁক খেয়ে চলে আসে বিপিনের কাছে। ততক্ষণে বলে ফ্লাইটে কেটে গিয়েছেন নাওয়াজ। হেড করে ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দেন বিপিন।
ইনজুরি টাইমে ব্যবধান বাড়ান নন্দাকুমার। এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল মিগেলের। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ঠিক সময় পাস দিয়ে দেন নন্দাকুমার। নিজের শহরে তিনি গোল করে যান। এই ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। তবে চিন্তা থাকবে লাল-হলুদের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে।