
তাঁকে বলা হত ইন্ডিয়ান নেইমার, যার দিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের (Manchester United) মতো ক্লাবের নজর ছিল। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে প্রথমবার এই ফুটবোলারকে দেখে চমকে গিয়েছিলেন সবাই। তখন যে কোনও সেরা ইউরোপিয়ান ক্লাবে খেলার যোগ্যতা তাঁর মধ্যে দেখেতে পেয়েছিলেন অনেকেই।
কোথায় কোমল থাটাল?
কিন্তু ১০ বছর পর, সবাই একই প্রশ্ন করছেন যে, কোমল থাতালের (Komal Thatal) কী হলো? ভারতের সেই অনূর্ধ্ব-১৭ ব্যাচের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড় ছিলেন। আর অনূর্ধ্ব-১৭ স্তরে তিনি ৯টি গোল করেছিলেন, যা তাঁকে সর্বোচ্চ গোলদাতা বানিয়েছিল। তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি যেকোনো স্তরে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন এবং উরুগুয়ের মতো দলের বিরুদ্ধেও গোল করেছিলেন।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে গোলের ভিডিও
তাঁর এই পারফরম্যান্স দেখেই এটিকে (ATK) তাঁকে সাইন করায়। এবং সবার প্রত্যাশাও বেশ বেশি ছিল। কিন্তু সমস্যা এখান থেকেই শুরু হয়। গেম টাইম (নিয়মিত খেলার সুযোগ) কখনোই পাননি, লোনে পাঠানো হয়েছিল, কখনোই কোনো ধারাবাহিক ভাবে খেলার সুযোগ সেভাবে পাননি। আর এরপর চোট, ফিটনেস এবং শৃঙ্খলজনিত সমস্যা তাঁর ক্যারিয়ারকে আর ডানা মেলতেই দেয়নি।
কোন কোন ক্লাবে খেলেছেন কোমল?
২০১৮ সালে তাঁকে সই করায় এটিকে। ২০২১ অবধি তিনি সেখানেই ছিলেন। সেই সময়, রিজার্ভ দলের হয়েও আইলিগ ২-এর ম্যাচ খেলেরছেন তিনি। এরপর যদিও চোটের কারণে অনেকটা সময় বাইরে থেকেছেন। ২ বছর এটিকেতে কাটিয়ে চলে যান জামশেদপুর এফসিতে। এক মরসুম সেই ক্লাবে ছিলেন। সেখানেও খুব বেশি খেলার সুযোগ আসেনি। তবে তিনি এখনও জামশেদপুরেরই ফুটবলার। এরপর তিনি লোনে প্রথমে চার্চিল ব্রাদার্স ও তারপরে চলে যান ওড়িশা এফসিতে। এখনও ওড়িশার ক্লাবের হয়ে খেলছেন তিনি।
কোমলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ধারাবাহিকতা (Continuity)। তিনি কোনো ক্লাবেই থিতু হতে পারেননি এবং তাঁর আত্মবিশ্বাসও কমে যায়। আর যে কোমলকে আজ থেকে ১০ বছর আগে দেখা গিয়েছিল, সেই ফর্মে কি তিনি ফিরতে পারবেন? সেটাই বড় প্রশ্ন। যদিও কেরিয়ারে অনেকটা সময় রয়েছে তাঁর হাতে।