Advertisement

সে দিন মেসিকে কোথায় কতবার 'টাচ' করেন অরূপ? প্রাক্তন মন্ত্রীকেই দায়ী করে চিঠি দিল মেসির টিম

ইমেলে দাবি করা হয়েছে, যুবভারতীতে নির্ধারিত অনুষ্ঠান চলাকালীন অরূপ বিশ্বাস মাঠে প্রবেশ করার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাক্তন মন্ত্রীর একাধিক আচরণ ও পদক্ষেপ অনুষ্ঠানের পূর্বনির্ধারিত প্রোটোকলের বাইরে ছিল।

ফাইল ছবিফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 17 Jun 2026,
  • अपडेटेड 7:37 PM IST
  • কলকাতায় লিওনেল মেসির সফর এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ঘটনার জেরে এবার সামনে এল নতুন এক আন্তর্জাতিক মাত্রা।
  • বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে সরাসরি ইমেল পাঠিয়েছে মেসির টিম।

কলকাতায় লিওনেল মেসির সফর এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ঘটনার জেরে এবার সামনে এল নতুন এক আন্তর্জাতিক মাত্রা। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে সরাসরি ইমেল পাঠিয়েছে মেসির টিম। এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত অবশ্য কয়েকদিন আগেই দিয়েছিলেন অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত।

সূত্রের খবর, গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ‘গোট ট্যুর’-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থার জন্য ওই ইমেলে সরাসরি তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করা হয়েছে। ফলে ইতিমধ্যেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে থাকা প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনি অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, মেসির দলের এক শীর্ষকর্তা এই ইমেলটি পাঠিয়েছেন। তিনি কলকাতা সফরের সময় বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং যুবভারতীর অনুষ্ঠানেও মেসির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে মাঠে ছিলেন। ফলে তদন্তের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ইমেলে কী অভিযোগ করা হয়েছে?
ইমেলে দাবি করা হয়েছে, যুবভারতীতে নির্ধারিত অনুষ্ঠান চলাকালীন অরূপ বিশ্বাস মাঠে প্রবেশ করার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাক্তন মন্ত্রীর একাধিক আচরণ ও পদক্ষেপ অনুষ্ঠানের পূর্বনির্ধারিত প্রোটোকলের বাইরে ছিল।

মেসির টিমের দাবি, অরূপ বিশ্বাস বারবার মেসির খুব কাছে চলে যাচ্ছিলেন এবং ছবি তোলার সময় তাঁর কাঁধ ও কোমরে হাত রাখছিলেন। এতে বিশ্বখ্যাত ফুটবলার অস্বস্তিতে পড়েছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ, প্রোটোকল অনুযায়ী যেখানে নির্দিষ্ট এলাকায় মাত্র তিনজন সরকারি ফটোগ্রাফারের থাকার কথা ছিল, সেখানে প্রায় ৪০ জনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। তাঁদের অনেকেরই বৈধ অনুমতি বা পাস ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।

মেসির টিমের বক্তব্য, এই অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং সেই কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই মেসিকে অনুষ্ঠানস্থল ছাড়তে হয়।

Advertisement

ইমেলে আরও দাবি করা হয়েছে, পুরো পরিস্থিতির উপর অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনুষ্ঠানের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়েছিল এবং মেসির আগেভাগে চলে যাওয়ার জন্য শতদ্রুকে দায়ী করা উচিত নয়।

আদালতে নতুন লড়াই
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইও নতুন মোড় নিয়েছে। অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে শতদ্রু দত্তের পক্ষ থেকে নতুন মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর আইনজীবী অরিন্দম জানা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আদালত সূত্রে খবর, মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে এবং চলতি সপ্তাহেই শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গ্রেফতারি এড়াতে অরূপ বিশ্বাস হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ তাঁকে সাময়িক আইনি সুরক্ষা দিলেও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি বিধাননগর পুলিশকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়।

টিকিট কেলেঙ্কারির অভিযোগও সামনে
শতদ্রু দত্তের অভিযোগ, যুবভারতীর অনুষ্ঠানের জন্য ছাপানো প্রায় ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার টিকিট অরূপ বিশ্বাস নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন। সেই টিকিটের একটি বড় অংশ পরিচিতদের মধ্যে বিলি করা হয় এবং কিছু টিকিট কালোবাজারিতেও বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

তাঁর দাবি, এর ফলে বহু সাধারণ দর্শক বঞ্চিত হন এবং গোটা অনুষ্ঠান জুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এই অভিযোগগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এই মামলার তদন্তে সহযোগিতার জন্য এর আগেও বিধাননগর পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে একাধিকবার নোটিস পাঠিয়েছিল। প্রথমবার তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান। পরে গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হলে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আইনি সুরক্ষা নেন। এবার মেসির টিমের সরাসরি ইমেল সামনে আসায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement