
এ যেন ছিল বিশ্বকাপের 'এল ক্লাসিকো'। একদিকে, রিয়াল তারকা কিলিয়ান এমবাপে এবং অন্যদিকে, বার্সার তরুণ তুর্কী লামিন ইয়ামাল। তবে এক্ষেত্রে তাঁরা ছিলেন দেশের জার্সিতে, FIFA বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মহারণে। মেগা ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশার পারদ ছিল তুঙ্গে। তবে প্রত্যাশা পূরণ ব্যর্থ হলেন রিয়েল তারকা। ফাইনালে পৌঁছলেন বার্সা স্টার।
এমবাপে যে ধাক্কা মেসিকে দিয়েছিলেন, এবার এমবাপেকে ঠিক সেই তেতো স্বাদ ফিরিয়ে ফিরিয়ে দিলেন চির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের ১৯ বছরের তরুণ ফুটবলার।
বর্তমান ফুটবলে এমবাপে অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, তা কারওই অস্বীকার করার উপায় নেই। রিয়েল মাদ্রিদের হয়ে গত মরশুমে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল দেন তিনি। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুই আসরেই সর্বোচ্চ গোলদাতা। চলতি বিশ্বকাপেও ৬ ম্যাচে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছেন। মিরোস্লাভ ক্লোজের ১৬ গোলের পুরনো রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে বর্তমান গোলসংখ্যা ১৯। সামনে কেবল ২০ গোল করা লিওনেল মেসি। তবে ফরাসি স্ট্রাইকার ম্যাচের আগে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, সেমিতে হারের পর সমালোচিত হলেন বিস্তর।
এদিকে, গত সোমবারই ১৯ বছরে পা দিলেন বার্সেলোনার ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সে ব্যালন ডি'অর রানার্স আপ এই তারকা ফুটবলার বিশ্বকাপের রানার্স আপ হওয়া ফ্রান্সের এমবাপেকে সেমিফাইনালে কার্যত ঘোল খাইয়ে দিয়েছেন। স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেছিলেন, 'এই বিশ্বকাপে লামিনের বড় দিন আসা এখনও বাকি। এটাই ইয়ামালের সময়। ১০ গোল করার সময় নয়, বরং নির্ণায়ক ম্যাচে নির্ধারক হওয়ার সময়।' হয়তো কোচের বার্তাই ফলে গেল সেমিফাইনালের মেগা ম্যাচে। ইয়ামালই পেনাল্টি এনে দেন প্রথমার্ধে। সেই ব্যবধান বাড়ে দ্বিতীয়ার্ধে। যা থেকে আর সমতা ফেরাতে পারেনি ফ্রান্স।
গোটা টুর্নামেন্ট ভাল খেলেও সেমিফাইনালের মহারণে নিষ্প্রভ হয়ে পড়ল ফরাসি ফুটবলাররা। দাগ কাটতে ব্যর্থ হলেন ডেম্বেলে। বোতল বন্দি হয়ে রইলেন এমবাপে।
দুরন্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্স কেন মুখ থুবড়ে পড়ল? ম্যাচ শেষে এই নিয়ে মুখ খুললেন এমবাপে। স্পষ্ট জানালেন, স্ট্র্যাটেজিতে ভুলের জন্যই হারতে হয়েছে ফ্রান্সকে। মাঝমাঠের দখল নিতে না পাওয়ার মাশুল গুনতে হয়েছে দলকে, তা-ও মেনে নিলেন। পরোক্ষ ভাবে দায়ী করলেন কোচ দিদিয়ের দেশঁকেই। ESPN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'মিডফিল্ডে আমাদের তিনের বিরুদ্ধে দুই পরিকল্পনা নিয়ে সাফল্য পাওয়া কঠিন। প্রেসিংয়ের সময়ে আমাদের মধ্যে তালমিলের অভাব ছিল। আমার মনে হয়, আমাদের ম্যান-টু-ম্যান প্রেস করা উচিত ছিল, যাতে ওদের আমাদের সঙ্গে দৌড়তে বাধ্য করা যেত।'
তারকা স্ট্রাইকার বলেন, ‘স্পেন নিজেদের পরিকল্পনা মেনেই খেলেছে। ওরা বলের দখল এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে ভালোবাসে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল শুরু থেকেই ওদের উপরে চাপ তৈরি করা, কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। ফাইনালে ওঠার জন্য যা যা প্রয়োজন ছিল, তার সবটা আমরা করতে পারিনি।’
লামিন ইয়ামাল ম্যাচ শুরুর আগে বলেছিলেন, তিনি বিশ্বকাপ জিততেই এসেছেন। পাল্টা কটাক্ষের সুরে এমবাপেকে বলতে শোনা গিয়েছিল, 'ওঁর আত্মবিশ্বাস আমার ভাল লেগেছে। তবে ম্যাচের আগে এমন কথা বললে এটাও মেনে নিতে হবে যে, ম্যাচের পর সেই কথাই আবার ফিরে আসতে পারে। যদি ফ্রান্স জেতে, তাহলে আমি অবশ্যই ওকে এই কথাগুলো মনে করিয়ে দেব। ও অসাধারণ প্রতিভাবান একজন ফুটবলার। ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। কিন্তু আগামীকালের ম্যাচে কোনও উপহার থাকবে না।'
তবে শেষ পর্যন্ত ইয়ামাল যে এমবাপের মুখে গ্রাস কীভাবে কেড়ে নিয়েছেন, তা সকলেরই জানা।