
নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে টাইব্রেকারে ৪-৩ হারিয়ে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগান। ফলে রবিবার ডুরান্ডের নির্ণায়ক ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে মোহনবাগান-ইস্ট বেঙ্গল। যা নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। তিন বছর আগে লাল-হলুদদের হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল সবুজ-মেরুণ। এবারও কি তার পুনরাবৃ্ত্তি নাকি বদলা নেবে ইস্টবেঙ্গল? সেটাই দেখার।
আজ শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে দুই দলই সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের পর খেলা গড়ায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে। আর তাতেই বাজিমাত করেন গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই ফাইনালে ওঠে সবুজ-মেরুন শিবির।
ম্যাচের শুরু থেকেই তুলনামূলকভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে মোহনবাগান। বাঁ দিক দিয়ে একের পর এক আক্রমণ তুলে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের রক্ষণকে চাপে ফেলছিলেন লিস্টন কোলাসো। দূরপাল্লার শটেও গোলরক্ষক গুরমিত সিংকে পরীক্ষা করেন তিনি।
তবে পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল নর্থইস্টও। বিশেষ করে আলাউদ্দিন আজারাইয়ের গতির সামনে সমস্যায় পড়ছিল মোহনবাগানের রক্ষণ। একটি পাল্টা আক্রমণ থেকে হাফ-ভলি নিয়ে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন আজারাই। কিন্তু তাঁর শট অল্পের জন্য গোলের বাইরে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলই গোলের চেষ্টা চালিয়ে যায়। ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বলের দখল ছিল মোহনবাগানের। কিন্তু সেই আধিপত্যকে গোলে পরিণত করতে পারেনি তারা। নর্থইস্টও বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠে আসে।
একবার তো গোলের সামনে ক্লিনশট নেওয়ার জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছিলেন আজারাই। ঠিক সেই সময় দুর্দান্ত স্লাইডিং ট্যাকল করে বিপদ থেকে দলকে বাঁচান রাহুল ভেকে। অন্যদিকে নর্থইস্টের রক্ষণও মোহনবাগানের তারকা স্ট্রাইকার জেমি ম্যাকলারেনকে বিশেষ সুযোগ দেয়নি।
শ্যুটআউটের প্রথম তিন রাউন্ড পর্যন্ত দুই দলের লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বিশাল কাইথ। নর্থইস্টের রবিনের পেনাল্টি কোন দিকে আসছে তা সঠিকভাবে অনুমান করে দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। তাতে মানসিক দিক থেকে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। চাপের মধ্যেও নিজের পেনাল্টি থেকে গোল করেন জেমি ম্যাকলারেন। তাঁর গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-৩। তবে আবারও নর্থইস্টের পেনাল্টি রুখে দেন কাইথ। এবার তাঁর শিকার পার্থিব গগৈ। পরপর দুই পেনাল্টি সেভ করে মোহনবাগানকে ফাইনালের টিকিট এনে দেন।
এই পারফরম্যান্সের ফলে আরও একবার বড় ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথের । আর তাঁর হাত ধরেই ডুরান্ড কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল সবুজ-মেরুন। এবার ফাইনালে সামনে ইস্টবেঙ্গল। ফলে রবিবারের ডুরান্ড কাপ ফাইনাল শুধু ট্রফির লড়াই নয়, হয়ে উঠতে চলেছে আরও একটি ঐতিহাসিক কলকাতা ডার্বি। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসে, এখন সেটাই দেখার।