
বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মা বর্তমানে লন্ডনকেই তাঁদের প্রধান বাসস্থান হিসেবে রেখেছেন বলে সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। কাজের প্রয়োজনে তাঁদের ভারতে আসতে দেখা যায়। কিন্তু নিজের দেশ ছেড়ে কেন বাইরে? সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতের স্বামী চিকিৎসক শ্রীরাম নেনে। তাঁর দাবি, বিরাট ও অনুষ্কা দুজনেই তারকা হওয়ায় তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব পড়ছে। সন্তানদের স্বাভাবিক পরিবেশে মানুষ করতে পারছেন না। সেই কারণে তাঁরা লন্ডনকে বেছে নিয়েছেন। ২০২৫ সালে ইউটিউবার রণবীর আল্লাহবাদিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য সামনে এনেছিলেন শ্রীরাম নেনে।
শ্রীরাম নেনের দাবি, ভারতে বিরাট ও অনুষ্কা যেভাবে সবসময় মানুষের নজরে থাকেন, তাতে নিজেদের সাফল্য উপভোগ করা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করা তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠেছিল। সন্তানদেরও তাঁরা এমন পরিবেশে বড় করতে চেয়েছিলেন, যেখানে তাঁদের উপর অতিরিক্ত জনসমক্ষে নজরদারি থাকবে না। নেনের কথায়, 'তাঁরা যাই করেন, সবকিছুতেই মানুষের নজর পড়ে। ফলে একসময় তাঁরা নিজেদের গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন।'
সাধারণ জীবনযাপন করতে চান বিরাট-অনুষ্কা
কথোপকথনে তারকাদের প্রকাশ্যে চলাফেরার সমস্যার কথাও উঠে আসে। নেনে জানান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে তাঁর ভালোই লাগে। কিন্তু সবসময় সেলফির আবদার সামলানো কঠিন হয়ে যায়। বলেন, 'আমি সবার সঙ্গে খুব সহজে মিশতে পারি। নিজের মতো থাকতে ভালোবাসি। কিন্তু সেখানেও কখনও কখনও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময়ই সেলফি তোলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন তা সামলানো কঠিন।'
তারকাদের জনপ্রিয়তা কীভাবে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে, সেই প্রসঙ্গেও কথা বলেন নেনে। তাঁর মতে, মানুষের ভালোবাসা বা আগ্রহকে তিনি নেতিবাচক হিসেবে দেখেন না। কিন্তু ব্যক্তিগত মুহূর্তেও যদি একই ধরনের মনোযোগ চলতে থাকে, তখন তা অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
অনুষ্কা ও বিরাটের প্রসঙ্গে নেনে বলেন, 'ওঁরা খুব ভালো মানুষ। তাঁরা শুধু চান, তাঁদের সন্তানরা যেন স্বাভাবিকভাবে বড় হতে পারে।'
লন্ডনে অনুষ্কা-বিরাটের জীবন
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ইতালিতে ঘনিষ্ঠ পরিজনদের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন অনুষ্কা শর্মা ও বিরাট কোহলি। ২০২১ সালে তাঁদের কন্যার জন্ম হয়। ২০২৪ সালে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন অনুষ্কা। এরপর বিভিন্ন সময়ে লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে দেখা গিয়েছে বিরাট ও অনুষ্কাকে। সেখানে বেশি সময় কাটানোর ফলে তাঁরা সন্তানদের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত ও শান্ত জীবন কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন বলে মনে করা হয়।
শ্রীরাম নেনে নিজেও দীর্ঘদিন আমেরিকায় ছিলেন। পরে ভারতে ফিরে আসেন। তাঁর কথায়, আমেরিকায় থাকার সময় যে বিষয়টি তিনি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতেন, তা হল নিজের মতো থাকার স্বাধীনতা। পরিচয় গোপন রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ। তবে ভারতে ফিরে আসার পর সেই ব্যক্তিগত পরিসর অনেকটাই কমে যায় বলে জানান তিনি। সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার ক্ষেত্রে পরিচিতি অনেক সময় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
১৯৯৯ সালে মাধুরী দীক্ষিতকে বিয়ে করেন শ্রীরাম নেনে। দীর্ঘদিন তাঁরা আমেরিকার ডেনভারে ছিলেন। ২০১১ সালে ভারতে ফিরে আসেন। তাঁদের দুই ছেলে, আরিন ও রায়ান।
অভিনয় থেকে দূরে অনুষ্কা
২০১৮ সালে ‘জিরো’ মুক্তির পর থেকে অনুষ্কা শর্মাকে নিয়মিত অভিনয়ে দেখা যায়নি। পরে তিনি ‘চাকদা এক্সপ্রেস’-এর কাজ শেষ করেন। এই ছবিতে তাঁকে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামীর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। তবে ছবিটি এখনও মুক্তি পায়নি। ২০২২ সালে নিজের প্রযোজনা সংস্থার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ান অনুষ্কা।