
একের পর এক তারকাখচিত দলের বিদায়ের মধ্যে বাদ পড়ল না নেদারল্যান্ডও। এবারের বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে ছিল ডাচরা। তবে নক আউটে এসেই মরক্কোর কাছে হারতে হল তাদের। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ দল মরক্কো এবং সপ্তম দল নেদারল্যান্ডস। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের তীব্র লড়াই ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর, পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬-র টিকিট নিশ্চিত করেছে মরক্কো।
কারা শেষ ষোলয় জায়গা পেল?
কানাডা, প্যারাগুয়ে, ব্রাজিল, মরক্কো এই চার দল ইতিমধ্যেই শেষ ষোলয় জায়গা করে নিয়েছে।
কানাডা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ইতিহাস গড়ে শেষ ১৬-তে উঠেছে।
প্যারাগুয়ে রাউন্ড অব ৩২-এর বড় অঘটনে শক্তিশালী জার্মানিকে টাইব্রেকারে বিদায় করেছে।
ব্রাজিল জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচে ২-১ গোলে জিতে জায়গা পাকা করেছে।
মরক্কো নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের রোমাঞ্চকর ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ডাচদের হারিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে।
প্রথমার্ধে গোল আসেনি
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই অত্যন্ত রক্ষণাত্মক ও গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে ডাচদের কড়া রক্ষণভাগের সামনে মরক্কোর আশরাফ হাকিমি এবং ইসমায়েল সাইবারির আক্রমণগুলো বারবার থমকে যায়। ৫২ মিনিটে আশরাফ হাকিমির একটি দুর্দান্ত শট বারে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় মরক্কো। অন্যদিকে ডাচরাও বল দখলে এগিয়ে থাকলেও মরক্কোর জমাট রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হলে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ ফুটবল
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি বাড়ে। ৭২ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো। ক্রিসেনসিও সামারভিলের নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন তিনি। গোল করার পর ইমোশনাল গাকপোকে সতীর্থরা জড়িয়ে ধরেন।
পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি মরক্কো। ম্যাচের নির্ধারিত সময় যখন শেষের পথে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে (৯১ মিনিটে) চমক দেখান মরক্কোর ইসা দিওপ। চেমসডিন তালবির ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেনকে পরাস্ত করে স্টেডিয়ামে উপস্থিত মরক্কোর সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান দিওপ। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
ভারব্রুগেনের অতিমানবীয় সেভ
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিটে মরক্কো সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে। ৯৬ মিনিটে মরক্কোর সুফিয়ান রাহিমি ডাচ ডিফেন্স ভেঙে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে চলে যান। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন অবিশ্বাস্য এক সেভ করে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে দলকে বাঁচান। অতিরিক্ত সময়ের বাকি অংশে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
পেনাল্টি শুটআউটে বাজিমাত মরক্কোর
টাইব্রেকারে চরম স্নায়ুচাপের পরীক্ষা দেয় দুই দলই। দুই দলের ফুটবলাররাই গোল মিসের মহড়ায় মাতেন। নেদারল্যান্ডসের পক্ষে উইনালদুমের বদলি হিসেবে আসা জাস্টিন ক্লাইভার্ট এবং কুইন্টেন টিম্বার পেনাল্টি মিস করেন। অন্যদিকে মরক্কোর হাকিমি বল বারে মারলেও চেমসডিন তালবি এবং সুফিয়ান রাহিমি লক্ষ্যভেদ করেন। শেষ শটে মরক্কোর মিডফিল্ডার ইসমায়েল সাইবারি ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে মরক্কোর ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন এবং ইউরোপীয় পরাশক্তি নেদারল্যান্ডসকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেন।