
পটনার রাস্তায় নামলেন প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক চাকরিপ্রার্থী। BPSC TRE 4.0 নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিতে শুক্রবার উত্তাল হয়ে উঠল বিহারের রাজধানী। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই বিক্ষোভ ঘিরে চাপ বাড়ল নীতীশ সরকারের উপর। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, বারবার আশ্বাস মিললেও এখনও পর্যন্ত চতুর্থ দফার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী।
পটনা কলেজ থেকে শুরু হওয়া মিছিল ধীরে ধীরে ডাকা বাংলো মোড়ের দিকে এগোতে থাকে। রাস্তা জুড়ে চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়ের জেরে কার্যত থমকে যায় শহরের যান চলাচল। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। রাখা হয় ওয়াটার ক্যাননও। ডাকা বাংলো চত্বর ঘিরে ফেলে প্রশাসন।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, BPSC TRE 3 নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। অথচ লক্ষাধিক পড়ুয়া TRE 4 বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। সরকারের বিরুদ্ধে নিয়োগে দেরির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, শূন্যপদের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করতে হবে এবং কবে বিজ্ঞপ্তি বেরোবে, তার নির্দিষ্ট সময়সীমাও জানাতে হবে।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রনেতা দিলীপ কুমার সরাসরি সরকারকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, “সরকার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু যাঁরা বছরের পর বছর লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও চিন্তা নেই। আজ যদি বিজ্ঞপ্তির ঘোষণা না হয়, তাহলে এই আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের ঘেরাওয়ে পরিণত হবে।”
বিক্ষোভকারীদের আরও একটি বড় দাবি হল ‘ডোমিসাইল পলিসি’ কঠোরভাবে কার্যকর করা। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষক নিয়োগে বিহারের স্থানীয় যুবকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাইরের রাজ্যের প্রার্থীদের কারণে স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের একাংশের তরফে।
শুক্রবার সকাল থেকেই পটনার বিভিন্ন এলাকায় বাড়তে থাকে উত্তেজনা। হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী রাস্তায় নেমে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, অ্যাম্বুল্যান্স এবং স্কুল বাস চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় পদক্ষেপের কথা জানানো হয়নি। শিক্ষা দফতর বা সদ্য শপথ নেওয়া কোনও মন্ত্রীর তরফেও সরকারি বিবৃতি সামনে আসেনি। আর সেই কারণেই ক্ষোভ আরও বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার গঠনের আবহেই এই আন্দোলন বিহার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, চাকরি এবং নিয়োগ ইস্যু এখন বিহারের অন্যতম বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন। বিশেষ করে যুব ভোটব্যাঙ্কের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, তাঁরা শুধুমাত্র চাকরির সুযোগ চান। বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়ার পরও যদি নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। তাই দ্রুত TRE 4 বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলে আন্দোলন আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।