Advertisement

AI শুধুই 'ভাঁওতা'? শেয়ার বাজারে ধস তাবড় স্টকে

AI শেয়ার বাজারে ধাক্কা, ভারতের জন্য খুলতে পারে নতুন সুযোগের দরজা। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিদেশি লগ্নি বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিদেশি লগ্নি বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিদেশি লগ্নি বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 07 Jun 2026,
  • अपडेटेड 9:47 PM IST
  • অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
  • সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর চিপ অপরিহার্য।
  • AI প্রযুক্তির বিস্ফোরক বৃদ্ধির ফলে এই চিপ নির্মাতাদের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

AI bubble: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের উন্মাদনার মাঝে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে সাম্প্রতিক বড়সড় সংশোধন নজর কেড়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, এত দিন যে বিদেশি বিনিয়োগের বড় অংশ মার্কিন AI এবং সেমিকন্ডাক্টর সংস্থাগুলির দিকে চলে যাচ্ছিল, তার কিছুটা ফের ভারতের বাজারমুখী হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে গত কয়েক বছর ধরে AI-কে কেন্দ্র করে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে। AI-চালিত পরিষেবা, ডেটা সেন্টার এবং উন্নত চিপের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে NVIDIA, AMD, Intel-সহ একাধিক সংস্থার বাজারমূল্য দ্রুত বেড়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যাশার তুলনায় ব্যবসায়িক ফলাফল কিছু ক্ষেত্রে কম আশাব্যঞ্জক হওয়ায় প্রযুক্তি খাতে বড়সড় মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ডেটা সেন্টার, AI মডেল থেকে গাড়ি; প্রায় সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর চিপ অপরিহার্য। AI প্রযুক্তির বিস্ফোরক বৃদ্ধির ফলে এই চিপ নির্মাতাদের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

ফলে গত কয়েক বছরে বিশ্বের অন্যতম বড় চিপ নির্মাতা সংস্থাগুলির শেয়ারের দর দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। প্রযুক্তি খাতের বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে AI। তবে বাজারে যখন প্রত্যাশা অত্যধিক বেড়ে যায়, তখন সামান্য হতাশাজনক ফলাফলও বড় সংশোধনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

AI কি থেমে যাবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তার সম্ভাবনা প্রায় নেই। ইতিহাস বলছে, নতুন প্রযুক্তি ঘিরে বিনিয়োগের উন্মাদনা আগে বহু বার দেখা গিয়েছে। রেলপথ, ইন্টারনেট কিংবা স্মার্টফোন— প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম দিকে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। পরে বাজারে সংশোধন এলেও প্রযুক্তিগুলি দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বকে বদলে দিয়েছে।

AI ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যেতে পারে। বাজারে ওঠানামা থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আগামী দিনে আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে। গত দেড়-দুই বছরে বিশ্বজুড়ে বহু বিনিয়োগকারী AI-নির্ভর সংস্থাগুলির দিকে ঝুঁকেছিলেন। ফলে ভারতের মতো উদীয়মান বাজার থেকে কিছু পুঁজি অন্যত্র সরে গিয়েছিল।

Advertisement

কিন্তু যদি প্রযুক্তি খাতে মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তা হলে বিনিয়োগকারীরা আবার এমন অর্থনীতির দিকে নজর দিতে পারেন, যেখানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী এবং দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের ক্ষেত্রে জনসংখ্যাভিত্তিক ভোগব্যয়, পরিকাঠামো উন্নয়ন, উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বৃদ্ধি এখনও শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। কেন্দ্রের PLI প্রকল্প, দ্রুত বাড়তে থাকা উৎপাদন শিল্প এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণও ভারতের অর্থনীতিকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে পারে?
বাজার মহলের একাংশের মতে, প্রযুক্তি খাতে অস্থিরতার সময়ে স্থিতিশীল বৃদ্ধির সম্ভাবনাময় অর্থনীতিগুলি নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে পারে। সেই তালিকায় ভারতের নাম উপরের দিকেই রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, AI প্রযুক্তির বিকাশ চলবে। কিন্তু একই সঙ্গে বাস্তব অর্থনীতি, অবকাঠামো, উৎপাদন এবং ভোগব্যয়ের উপর নির্ভরশীল বাজারগুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সেই কারণেই আগামী কয়েক বছরে ভারতের প্রতি আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীদের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের অর্থনীতির মূল শক্তি হল বৃহৎ বাজার, তরুণ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সম্ভাবনা। AI-কে ঘিরে বিশ্ববাজারে যতই ওঠাপড়া হোক না কেন, এই ভিত্তিগুলি ভারতের বৃদ্ধির গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। 

Read more!
Advertisement
Advertisement