
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংস্থার লঞ্চ ইভেন্টে দেখা যায়নি iPhone 18-কে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, স্ট্যান্ডার্ড মডেলটি বাজারে আসবে না। বরং ইন্টারনেটে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, স্যামসাংয়ের মতো এবার থেকে আলাদা সময়ে ফোন লঞ্চ করার কৌশল নিতে পারে অ্যাপল।
ইতিমধ্যেই iPhone 18 নিয়ে বিভিন্ন রিপোর্ট সামনে এসেছে। সেগুলিতে দাবি করা হয়েছে, এই ফোনে থাকতে পারে আরও বড় ব্যাটারি, বেশি RAM, দ্রুতগতির প্রসেসর এবং ভাল ডিসপ্লে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সংস্থার প্রথম ফোল্ডেবল ফোন, অর্থাৎ iPhone Duo বাজারে এনেছে অ্যাপল। এরপর iPhone তৈরি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ পড়েছে। বিশেষ করে যন্ত্রাংশ তৈরির ক্ষেত্রে লজিস্টিক সংক্রান্ত সমস্যা হচ্ছে। যার ফলে স্ট্যান্ডার্ড iPhone 18-এর লঞ্চ পিছিয়ে যেতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে বাজারে আসতে পারে ফোনটি। একই সময়ে iPhone 18e এবং iPhone Air 2-ও লঞ্চ হতে পারে।
iPhone 18-এর দাম কত হতে পারে?
বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের সঙ্কটের কারণে বর্তমানে স্মার্টফোন ইন্ড্রাস্ট্রি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে iPhone 18-এর দাম নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। সম্প্রতি চিনের জনপ্রিয় টিপস্টার ডিজিটাল চ্যাট স্টেশন (DCS) চিনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ওয়েইবোতে দাবি করেছেন, বর্তমান iPhone 17-এর তুলনায় iPhone 18-এর দাম বেশি হতে পারে।
DCS-এর এই দাবির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কয়েকটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে iPhone 18-এর দাম শুরু হতে পারে ৯৯,৯০০ টাকা থেকে। আবার কিছু রিপোর্টের দাবি, ফোনটির দাম বর্তমান iPhone 17-এর মতোই ৮৯,৯০০ টাকার কাছাকাছি রাখা হতে পারে।
স্টোরেজের ক্ষেত্রে ২৫৬ জিবি এবং ৫১২ জিবি-র দুটি বিকল্প পাওয়া যেতে পারে। তবে স্ট্যান্ডার্ড মডেলে ১ টিবি স্টোরেজের কোনও ভ্যারিয়েন্ট থাকার সম্ভাবনা নেই।
iPhone 18-এ কী কী নতুন ফিচার থাকতে পারে?
ডিসপ্লের কথা বলতে গেলে, iPhone 18-এ আগের মডেলের মতোই ৬.৩ ইঞ্চির LTPO OLED প্যানেল থাকতে পারে। পাশাপাশি পাওয়া যেতে পারে ১২০ হার্টজ ProMotion রিফ্রেশ রেট এবং 1.5K রেজোলিউশন। ডিসপ্লের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি বেজেলও কিছুটা সরু হতে পারে।
নতুন iPhone Pro এবং Pro Max মডেলে Dynamic Island-এর আকার ছোট করা হয়েছে। তবে টিপস্টার DCS-এর দাবি, স্ট্যান্ডার্ড iPhone 18-এ আগের মডেলের মতোই Dynamic Island থাকতে পারে।
প্রসেসরের ক্ষেত্রে এই ফোনে TSMC-র 2nm প্রযুক্তিতে তৈরি A20 চিপসেট ব্যবহার করা হতে পারে। A19-এর তুলনায় নতুন প্রসেসরটি আরও দ্রুত কাজ করতে পারে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। এর ফলে ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্ট্যান্ডার্ড iPhone 18-এ A20 চিপের কিছুটা আলাদা ভ্যারিয়েন্ট থাকতে পারে। অন্যদিকে ফ্ল্যাগশিপ মডেলগুলিতে A20 Pro চিপসেট থাকার কথা।
মেমোরির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। স্ট্যান্ডার্ড iPhone 18-এ ৯ জিবি অথবা ১২ জিবি RAM দিতে পারে অ্যাপল। আগের iPhone 17-এর তুলনায় এটি বড় আপগ্রেড হতে পারে। অ্যাপল বিশ্লেষক মিং-চি কুওর দাবি, ফোনে ৯ জিবি RAM থাকতে পারে। অন্যদিকে, জেফ পু-র অনুমান, RAM হতে পারে ১২ জিবি। RAM বাড়লে একসঙ্গে একাধিক কাজ করা এবং ফোনের মধ্যেই Apple Intelligence-এর বিভিন্ন ফিচার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও মসৃণ হতে পারে।
ক্যামেরাও আইফোন ব্যবহারকারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। iPhone 16 এবং iPhone 17-এর মতোই iPhone 18-এ ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ রাখতে পারে অ্যাপল। এতে ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি এবং আলট্রা-ওয়াইড সেন্সর থাকতে পারে।
সেলফি ক্যামেরাতেও আপগ্রেড আসতে পারে। তবে এই ক্যামেরা ১৮ মেগাপিক্সেলের হবে, নাকি ২৪ মেগাপিক্সেলের, তা নিয়ে বিভিন্ন রিপোর্টে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও iPhone 18-এ নতুন Camera Control বাটন, অ্যাপলের C2 মডেম, IP68 রেটিং-সহ জল ও ধুলো প্রতিরোধের সুবিধা এবং iOS 27 থাকতে পারে।
সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন হতে পারে Siri-তে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টকে আরও উন্নত করতে গুগলের Gemini প্রযুক্তি ব্যবহার করছে অ্যাপল। ফলে নতুন iPhone 18-এ আরও উন্নত ও স্মার্ট Siri পাওয়া যেতে পারে।