
Astrobase space technologies FFSC rocket: মহাকাশ গবেষণায় আরও এক ঐতিহাসিক মাইলস্টোন ছুঁয়ে ফেলল ভারত। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স(SpaceX)-এর মতোই সমমানের রকেট ইঞ্জিন তৈরি করল ভারতের এক বেসরকারি স্টার্টআপ সংস্থা। বেঙ্গালুরুর মহাকাশ প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপ ‘অ্যাস্ট্রোবেস স্পেস টেকনোলজিস’ (Astrobase Space Technologies) দেশের প্রথম ‘ফুল-ফ্লো স্টেজড কম্বাশন’ (FFSC) রকেট ইঞ্জিন তৈরি করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের নিজস্ব পরীক্ষাকেন্দ্রে ইতিমধ্যেই এই ইঞ্জিনের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। সংস্থার দাবি, বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক রকেট ইঞ্জিন প্রযুক্তির অন্যতম। এই ইঞ্জিন কাজে লাগালে আগামিদিনে ভারতও স্পেসএক্সের মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য (Reusable) রকেট তৈরি করতে পারবে। এমনই দাবি সংস্থার। আর সেটা বাস্তবায়িত হলে মহাকাশ অভিযানের খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে।
এই ‘এফএফএসসি’ প্রযুক্তি কী?
‘ফুল-ফ্লো স্টেজড কম্বাশন’ বা এফএফএসসি (FFSC) ইঞ্জিন। অত্যন্ত জটিল সিস্টেম। সাধারণ রকেট ইঞ্জিনে জ্বালানির একটা বড় অংশ শুধু টার্বো-পাম্প চালাতেই অপচয় হয়ে যায়। কিন্তু এই FFSC টেকনোলজিতে জ্বালানি (মিথেন) এবং তরল অক্সিজেনের প্রতিটি কণা সম্পূর্ণভাবে দহন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। ফলে একফোঁটা জ্বালানিও নষ্ট হয় না। রকেটের কার্যক্ষমতা ও থ্রাস্টও বহুগুণ বেড়ে যায়।
মহাকাশের মহাযুদ্ধে চিন-আমেরিকাকে টক্কর
বর্তমানে মহাকাশে ভারতের প্রায় ৫৫টি অ্যাকটিভ স্যাটেলাইট রয়েছে। সেই তুলনায় চিনের রয়েছে প্রায় ১,৫০০টি। আমেরিকার ১৩ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে। বিশ্ববাজারে এবং মহাকাশে ভারতের উপস্থিতি বাড়াতে তাই দ্রুত স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
অ্যাস্ট্রোবেসের রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যেই তারা বুস্টার রকেটের ‘হপ টেস্ট’ (Hop Test) শেষ করতে চায়। আর সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, ২০২৮ সালের মধ্যেই এই বৈপ্লবিক ইঞ্জিন নিয়ে মহাকাশের লো-আর্থ অরবিটের (LEO) উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবে ভারতের প্রথম বেসরকারি রিইউজেবল রকেট। এই রকেটটি প্রায় ৩ টন পর্যন্ত ওজন মহাকাশে পৌঁছে দিতে পারবে। এই প্রকল্প সফল হলে মহাকাশ বাণিজ্যের বাজারে ভারতের দাপট যে অনেকটাই বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।