
সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় একটু অসতর্ক হলেই গেল। অনেক ক্ষেত্রেই অসাবধানতার কারণে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় পার্সোনাল ফটো বা ডিপ ফেক ভিডিও। আর এতদিন এই ধরনের ফটো বা ভিডিও ডিলিট করার জন্য অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হতো। যদিও বর্তমানে এই বিষয়টা নিয়ে কড়াকড়ি করতে চলেছে সরকার। এখন থেকে এই ধরনের ভিডিও এবং ফটো ২ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে দিতে হবে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলিকে। সেই মতো ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিও ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। যদিও কোনও সংস্থাই এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খোলেনি।
মাথায় রাখতে হবে, গত কয়েক বছরে ব্যক্তিগত ছবি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার ঘটনা বারবারই সামনে আসছে। এমনকী এআই-এর মাধ্যমে ডিপ ফেক ফটো বা ভিডিও তৈরি করেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর সেগুলির বিরুদ্ধেই এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিল ভারত সরকার।
সরকার খুবই কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলা এবং বালিকারাই সাধারণত এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। অনলাইন ট্রোলিং থেকে শুরু করে ব্ল্যাকমেলিং এবং মানসিক অত্যাচারের খবরও সামনে আসে। আর এই জায়গাতেই কড়া হতে চাইছে সরকার। তারা ২০২৬ সালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনকে আরও কড়া করছে। এই নয়া আইন অনুযায়ী, কোনও অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলিকে দ্রুত ওই সব ভিডিও এবং ছবি সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।
এই ধরনের অভিযোগ পাওয়ার মোটামুটি ২ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৩ ঘণ্টাও সময় লাগতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
ইটি-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ২ ঘণ্টার মধ্যেই এই ধরনের ভিডিও এবং ছবি সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আগে এই ধরনের কাজ করতে মোটামুটি ২৪ ঘণ্টার মতো সময় লেগে যেত। তবে বর্তমানে দ্রুত মডারেশন সিস্টেম এবং এআই ডিটেকশন টুলস এবং এমার্জেন্সি রেসপন্সের মাধ্যমে এই কাজ দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, কোনও সংস্থা যদি অভিযোগ পাওয়ার পরও সেই ভিডিও বা ছবি ডিলিট না করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও বাহানা শোনা হবে না।
আসলে সরকার এখন রিমুভ ফার্স্ট, ইনভেস্টিগেট লেটার মডেলে কাজ করতে চাইছে। তাই প্রথমেই সেই ভিডিও বা ছবি ডিলিট করতে বলছে তারা। তারপর তদন্ত শুরুর কথা ভাবছে।
এই কন্টেন্ট লেবেলিং করা বাধ্যতামূলক
এখন এআই কন্টেন্ট পোস্ট হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর সেই ধরনের কন্টেন্টে এআই কন্টেন্ট বলে লিখে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নতুন আইনে।