
টিকটক যে শর্ট ভিডিওর ট্রেন্ড শুরু করেছিল, তা এখনও থামার নাম নেই। ইনস্টাগ্রাম থেকে ইউটিউব, প্রায় সব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেই এখন রিলস ও শর্ট ভিডিওর দাপট। এবার সেই পথেই আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে ফেসবুক। মেটা ভারতে ফেসবুকের একটি নতুন ভার্সন পরীক্ষা করছে, যেখানে অ্যাপ খুললেই প্রথমে দেখা যাবে ফুল-স্ক্রিন ভিডিও এবং রিলস।
অর্থাৎ, এতদিন ফেসবুক খুললেই যে নিউজ ফিড সামনে আসত, সেই অভিজ্ঞতা এবার বদলে যেতে পারে। তবে এখনই সব ব্যবহারকারীর জন্য এই পরিবর্তন চালু হয়নি। ভারতে বেছে নেওয়া কিছু ইউজারের সঙ্গে নতুন এই ইন্টারফেস পরীক্ষা করছে মেটা।
নতুন অভিজ্ঞতা যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁরা ফেসবুক খুললেই প্রথমে ফুল-স্ক্রিন ভিডিও দেখতে পারেন। এরপর স্ক্রল করে একের পর এক রিলস দেখা যাবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ফেসবুক থেকে ছবি বা লেখা পোস্ট উঠে যাচ্ছে। সাধারণ নিউজ ফিডও থাকবে। ইউজার চাইলে পুরনো ফিড ফার্স্ট অভিজ্ঞতায় ফিরে যেতে পারবেন এবং আলাদা ট্যাব থেকে সাধারণ ফিড দেখতে পারবেন।
ফেসবুকের পরিচিতি দীর্ঘদিন ধরে ছিল বন্ধুদের পোস্ট, ছবি, লিঙ্ক, গ্রুপ এবং বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। কিন্তু মেটার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে, ফেসবুকের মূল অভিজ্ঞতাতেও এবার ভিডিওকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন পরীক্ষায় অ্যাপ খোলার পর সরাসরি ভিডিও দেখানোর মাধ্যমে Meta আসলে বুঝতে চাইছে, এতে ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মে আরও বেশি সময় কাটান কি না। অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু অ্যাপের ডিজাইন বদলের নয়। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে ইউজার এনগেজমেন্ট এবং প্ল্যাটফর্মে কাটানো সময়।
ভারত মেটার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। কোম্পানির বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ফেসবুকের অডিয়েন্স ৪০ কোটিরও বেশি। ফলে ভারতের মতো বড় বাজারে নতুন কোনও ফিচার পরীক্ষা করলে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর আচরণ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব।
ভারতে মেটার ভিডিও-কেন্দ্রিক কৌশল অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালে টিকটক নিষিদ্ধ হওয়ার পর ইনস্টাগ্রাম ভারতে রিলসকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। এরপর ছোট ভিডিও ভারতীয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এবার সেই একই প্রবণতা ফেসবুকে আরও জোরালোভাবে দেখা যাচ্ছে।
মেটা গত বছর জানিয়েছিল, ফেসবুকে নতুন করে পোস্ট করা সব ভিডিওই রিলস হিসেবে শেয়ার করা হবে। ভিডিওর দৈর্ঘ্য বা ফরম্যাট আলাদা হলেও তা রিলসের আওতায় আসবে। একইসঙ্গে ফেসবুকের ভিডিও ট্যাবের নামও বদলে রিলস করা হয়েছে। অর্থাৎ, ধীরে ধীরে ফেসবুকে ভিডিও এবং রিলসকে আলাদা কোনও ফিচার না রেখে মূল অভিজ্ঞতার অংশ করে তুলছে মেটা।
এর পিছনে আরও একটি বড় কারণ রয়েছে। বর্তমানে Instagram, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রল করে ছোট ভিডিও দেখছেন। মেটাও চাইছে, ফেসবুকও যেন এই প্রবণতা থেকে পিছিয়ে না পড়ে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, তরুণ ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে যে সময় কাটান, তার প্রায় ৬০ শতাংশ ভিডিও দেখার পিছনে ব্যয় করেন। মেটার প্রকাশিত আরেকটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অংশ নেওয়া ভারতীয় ব্যবহারকারীদের অন্তত ৯৭ শতাংশ প্রতিদিন ভিডিও দেখেন। Gen Z ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮৯ শতাংশ প্রতিদিন রিলস দেখেন বলেও জানিয়েছে সংস্থা।
তবে এখনই বলা যাবে না যে ভবিষ্যতে প্রত্যেক ফেসবুক ব্যবহারকারী অ্যাপ খুললেই রিলস দেখতে পাবেন। কারণ এই মুহূর্তে পুরো বিষয়টি পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। কিছু ব্যবহারকারীকে পুরনো ফিড ফার্স্ট অভিজ্ঞতায় ফিরে যাওয়ার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
তবে পরীক্ষায় যদি মেটা দেখে যে অ্যাপ খুলেই ভিডিও দেখানোর ফলে ইউজার এনগেজমেন্ট এবং ফেসবুক কাটানো সময় বাড়ছে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বেশি ব্যবহারকারীর জন্য এই পরিবর্তন আনা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ফেসবুকের পুরনো নিউজ ফিড কেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে পিছনে চলে গিয়ে ভিডিওই হয়ে উঠতে পারে প্ল্যাটফর্মের মূল আকর্ষণ।