
Indian EV Startup Magnet Free Motor: বিশ্বের ইলেকট্রিক যান বা ইভি বাজারে চিনের একচেটিয়া দাপট রুখে দিতে এবার ময়দানে নামল ভারতের এক নতুন স্টার্টআপ সংস্থা। বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটর তৈরির ক্ষেত্রে চিন মূলত তাদের বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টসের ভাণ্ডার ব্যবহার করে একচেটিয়া ব্যবসা কায়েম করে রেখেছে।
চিনের এই একাধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারতের এই প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপটি সম্পূর্ণ চৌম্বক বা ম্যাগনেট ছাড়াই অভিনব ইভি মোটর তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই বৈপ্লবিক আবিষ্কারের ফলে পরিবেশের দূষণ যেমন কমবে তেমনই আন্তর্জাতিক বাজারে মোটর তৈরির জন্য চিনের ওপর নির্ভরশীলতাও এক ধাক্কায় অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত প্রথাগত ইলেকট্রিক গাড়ির মোটরে শক্তিশালী স্থায়ী চৌম্বক ব্যবহার করা হয় যা তৈরি করতে নিয়োডাইমিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়ামের মতো বিশেষ কিছু বিরল খনিজের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে এই ধরনের খনিজের বিশ্বব্যাপী সরবরাহের প্রায় সত্তর থেকে আশি শতাংশই একাই নিয়ন্ত্রণ করে চিন। ফলে ইভি মোটরের কাঁচামালের জন্য অন্য সব দেশকেই চিনের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। ভারতের এই স্টার্টআপটি সেই চেনা সমীকরণ বদলে দিতে এমন এক বিকল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যেখানে মোটরের ভেতরে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরির জন্য কোনো বিরল খনিজের প্রয়োজন পড়বে না। চৌম্বকহীন এই বিশেষ মোটরটি তৈরি করতে দেশীয় স্তরে সহজলভ্য তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো সাধারণ ধাতু ব্যবহার করা হচ্ছে যা ভারতের মতো দেশের পক্ষে অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব।
এই দেশীয় প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বিপুল পরিমাণে কমিয়ে দেবে তেমনই অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাজারে ভারতীয় ইভি শিল্পকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করে তুলবে। চিনের ওপর নির্ভর না করেই এখন ভারতীয় ইভি নির্মাতারা আরও সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আনতে পারবেন। পরিবেশবিদদের একাংশও এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কারণ খনি থেকে বিরল খনিজ উত্তোলনের প্রক্রিয়া পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। ভারতের এই নতুন লেখকের লেখনীতে উঠে আসা স্টার্টআপের সাফল্য আগামী দিনে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয় বরং সমগ্র বিশ্বের ইভি প্রযুক্তির মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে।