
WhatsApp কি গোপনে সবার মেসেজ থেকে ডেটা কালেক্ট করে? সেই প্রশ্নেই তোলপাড় বিশ্ব। হোয়াটসঅ্যাপের মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। ব্যক্তিগত চ্যাট থেকে ব্যবসার তথ্য, সব কিছুতেই ভরসা ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’। সেই WhatsApp-কে ঘিরেই এবার বড় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মেসেজে গোপনে নজরদারি চালাতে পারে সংস্থা। যদিও এই দাবি বারবার খারিজ করেছে মালিক সংস্থা Meta। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া এক গোপন তদন্ত আচমকাই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে জল্পনা বাড়ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। এক অজ্ঞাতনামা হুইসেলব্লোয়ার মার্কিন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানান, WhatsApp-এর এনক্রিপশন সিস্টেমের আড়ালেও সংস্থা নাকি ব্যবহারকারীদের মেসেজে চাইলেই ঢুকতে পারে। অভিযোগটি সরাসরি পৌঁছয় U.S. Securities and Exchange Commission-এর কাছে। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে ২০২৫ সালে নীরবে তদন্ত শুরু করে মার্কিন সরকার।
তদন্তের দায়িত্ব পড়ে মার্কিন বাণিজ্য দফতরের অধীন Bureau of Industry and Security-এর এক বিশেষ এজেন্টের উপর। প্রায় ১০ মাস ধরে তিনি তথ্য সংগ্রহ করেন। সংস্থার অভ্যন্তরীণ স্ট্রাকচার খতিয়ে দেখা হয়। কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তদন্তের কোডনেম দেওয়া হয়েছিল ‘Operation Sourced Encryption’।
Bloomberg-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তদন্ত চলাকালীন ওই এজেন্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান। তাঁর বক্তব্য ছিল, Meta-র একটি অভ্যন্তরীণ ‘টায়ার্ড পারমিশন সিস্টেম’ রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কর্মী বা কনট্রাক্টররা ব্যবহারকারীদের কনটেন্টে অ্যাক্সেস পেতে পারেন। এমনকি টেক্সট, ছবি, ভিডিও বা অডিও; সব ধরনের মেসেজই এই সিস্টেমের আওতায় পড়তে পারে বলে অভিযোগ ওঠে।
এজেন্ট আরও দাবি করেন, ২০১৯ সাল থেকেই এই ধরনের ব্যবস্থা চালু থাকতে পারে। বিদেশে কর্মরত কিছু কর্মী, বিশেষ করে ভারতে থাকা কিছু কনট্রাক্টরদেরও এই অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্ত চলাকালীন কিছু সাক্ষাৎকারেও নাকি এমন ইঙ্গিত মিলেছে, যেখানে কনটেন্ট মডারেশনের কাজ করতে গিয়ে বার্তায় বিস্তৃত প্রবেশাধিকার ছিল।
তবে এই রিপোর্ট সামনে আসার পরই আচমকাই তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। মার্কিন বাণিজ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জানান, ওই এজেন্টের দাবি ‘অপ্রমাণিত’। ফলে তদন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
অন্যদিকে, Meta-র তরফে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, 'WhatsApp ব্যবহারকারীদের এনক্রিপ্টেড মেসেজে ঢুকতে পারে; এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।' তাদের দাবি, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি এতই সুরক্ষিত যে, ইউজাররা ছাড়া অন্য কেউ, এমনকি সংস্থাও সেই মেসেজ পড়তে পারে না।
তবু সন্দেহ কাটছে না। বহু ব্যবহারকারীরই অভিযোগ, ব্যক্তিগত চ্যাটে আলোচনা করা বিষয়ের সঙ্গে মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেখা যায়। যদিও এর পিছনে অ্যালগরিদম বা অন্য ডেটা ব্যবহারের বিষয় থাকতে পারে, তবুও সন্দেহ পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, সিকিউরিটির ঝুঁকির কারণে বিশ্বের একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই সরকারি ডিভাইসে WhatsApp ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমনকি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সরকারি ডিভাইসেও এই অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, WhatsApp-এর নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু মার্কিন তদন্তের এই ঘটনায় সেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। সত্যিই কি আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট নিরাপদ? নাকি প্রযুক্তির আড়ালে লুকিয়ে অন্য কোনও বাস্তবতা? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।