
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব Rail Tech Portal এবং e-RCT চালু করেছেন। সরকার বলছে এটি রেলওয়েতে উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে এবং ক্লেম প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজ করবে। এই পদক্ষেপটি রেলওয়ে সংস্কারের একটি বৃহত্তর প্যাকেজের অংশ, যার লক্ষ্য হল সিস্টেমটিকে দ্রুত, আরও স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তি-বান্ধব করে তোলা।
Rail Tech Portal লক্ষ্য হল রেলওয়ের দৈনন্দিন সমস্যাগুলিকে সরাসরি টেক কোম্পানি, স্টার্টআপ এবং রিসার্চ টিমের সঙ্গে সংযুক্ত করা। উদ্ভাবকরা এখন তাদের সমাধান সরাসরি পোর্টালে জমা দিতে পারবেন। রেলওয়ে সেই ধারণাগুলি নির্বাচন করবে এবং পাইলট প্রকল্প হিসাবে পরীক্ষা করবে। যদি ফলাফল ইতিবাচক হয়, তাহলে এগুলো আরও বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়িত হবে। এর ফলে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে যে সময় লাগে তা কমানো যেতে পারে।
AI দিয়ে পর্যবেক্ষণ সম্ভব
এই উদ্যোগটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিরাপত্তা, ট্র্যাক মনিটরিং, কোচে অগ্নি সতর্কতা ব্যবস্থা, এনার্জি সেভিংস এবং রক্ষণাবেক্ষণের মতো ক্ষেত্রগুলিকে ফোকাস করবে।
রেলওয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যাগুলি নিয়ে কাজ করে আসছে, কিন্তু নতুন সমাধানগুলি বাস্তবে পৌঁছাতে সময় লাগে। এই ব্যবধান পূরণে করবে রেল টেক পোর্টাল।
এই পোর্টালটি উদ্ভাবকদের কেবল সুযোগই নয়, ফান্ডের অ্যাক্সেসও প্রদান করতে পারে। রেলওয়ে ইতিমধ্যেই স্টার্টআপ এবং রিসার্চ টিমগুলিকে প্রোটোটাইপ তৈরি এবং পরীক্ষা করার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। নতুন ব্যবস্থাটি রেলওয়ের সহযোগিতায় নির্বাচিত আইডিয়াগুলি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগের সুযোগ প্রদান করবে, যার মধ্যে উন্নয়ন এবং ট্রায়ালের খরচের ক্ষেত্রে রেলওয়ের তরফে সহায়তা প্রদান করা হবে।
উদ্ভাবকরা অনুদান পাবেন
সরকার বলছে যে এর ফলে ছোট স্টার্টআপ এবং নতুন উদ্ভাবকদের রেলওয়ের সঙ্গে কাজ করা সহজ হবে। তবে, এই ফান্ড সরাসরি নগদ বিনিয়োগ নয়, এটি প্রোজেক্ট-ভিত্তিক সহায়তা, যা নির্বাচিত সমাধানের উপর দেওয়া হবে। এর অর্থ হল, রেল টেক পোর্টাল স্টার্টআপগুলির জন্য কোনও স্কিম বা ভর্তুকি প্ল্যাটফর্ম নয়। কেবলমাত্র রেলওয়ের চাহিদার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সমাধানগুলিই এখানে সুযোগ পাবে। যদি কোনও প্রযুক্তি রেলওয়ের জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয় তবেই এটি আরও সমর্থন পাবে। এর ফলে অকেজো বা কাগজ-ভিত্তিক আইডিয়াগুলির প্রচারের সম্ভাবনা হ্রাস পাবে। যাত্রীদের জন্য, এর প্রভাব পরোক্ষ হবে। যদি নিরাপত্তা, ট্র্যাক পর্যবেক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কিত প্রযুক্তি মাটিতে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করা যেতে পারে। কোচের কারিগরি ত্রুটি বা আগুন লাগার মতো ঘটনাগুলি আগে থেকেই সনাক্ত করা যেতে পারে। উন্নত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ট্রেনের বিলম্বও কমানো যেতে পারে। তবে, এই প্রভাব ধীরে ধীরে হবে, কারণ একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক জুড়ে প্রযুক্তিটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে।
e-RCT থেকে সুবিধা
এছাড়াও, Railway Claims Tribunal প্রক্রিয়া e-RCT-র মাধ্যমে ডিজিটালাইজ করা হয়েছে। ক্লেম সম্পর্কিত ফাইলিং এবং ট্র্যাকিং এখন অনলাইনে হবে। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে মামলার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যাবে। সরকার দাবি করছে যে এটি প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে, তবে বাস্তবে মামলা নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি পেলে আসল পার্থক্য দেখা যাবে।
উল্লেখ্য, রেলওয়ে পূর্বে অসংখ্য ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিছু সফল হয়েছে, আবার কিছুর প্রভাব সীমিত। অতএব, এই নতুন উদ্যোগের আসল পরীক্ষা হবে বাস্তবে। রেল টেক পোর্টালের জন্য নির্বাচিত সমাধানগুলি যদি সময়মতো বাস্তবায়িত হয় এবং e-RCT-তে মামলা নিষ্পত্তির গতি সত্যিই বৃদ্ধি পায়, তাহলে এটি রেল সংস্কারের একটি দৃঢ় সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যথায়, এটি কেবল আরেকটি পোর্টাল হিসেবেই থেকে যেতে পারে।